বর্ষার শুরুতেই পানিশূন্য গাজীখালী নদী, নাব্যতা ফেরাতে কার্যকর উদ্যোগের দাবি

সাটুরিয়া প্রতিনিধি :

 

বর্ষা মৌসুমের শুরু হলেও মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ঐতিহাসিক গাজীখালী নদীতে দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত পানির প্রবাহ। নদীর বিভিন্ন অংশে পানি না থাকায় কোথাও কোথাও জমে থাকা অল্প পানি কচুরিপানা ও বাজারের বর্জ্যে ঢেকে গেছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনজীবন, কৃষি ও জীবিকায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় গোপালপুর এলাকার ধলেশ্বরী নদী থেকে পানি এসে গাজীখালী নদী হয়ে ধামরাইয়ের বংশী নদীতে মিলিত হতো। বর্ষা মৌসুমে এই নদী দিয়ে বড় নৌকা চলাচল করত এবং নদীকেন্দ্রিক গড়ে উঠেছিল ঐতিহ্যবাহী সাটুরিয়া বাজার। বর্তমানে নদীর অধিকাংশ অংশে নাব্যতা কমে যাওয়ায় সেই চিত্র আর নেই।

নদীপাড়ের বাসিন্দা আব্দুল জানান, আগে বর্ষা এলেই নদী পানিতে ভরে যেত, মাছেরও প্রাচুর্য ছিল। কয়েক বছর আগে নদী খনন করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় গাজীখালী নদীর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার অংশে খননকাজ পরিচালিত হয়। এর মধ্যে সাটুরিয়া অংশে দুই দফায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যয়বহুল এ প্রকল্পের পরও নদীর নাব্যতা ফিরে আসেনি।

সাটুরিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, একসময় বর্ষাকালে নদীতে নতুন পানি আসার সঙ্গে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন নদী প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে।

নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সংকটে পড়েছেন স্থানীয় জেলে পরিবারগুলোও। রাধানগর মাঝিপাড়ার প্রবীণ জেলে জ্যোতিন রাজবংশী জানান, মাছের অভাবে অনেক জেলে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, গাজীখালী নদীর পুনঃখননের কাজ তার যোগদানের আগেই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে নদীতে পানি না আসার অন্যতম কারণ ধলেশ্বরী নদীর গোপালপুর এলাকার উৎসমুখে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া। উৎসমুখ পুনঃখনন করা গেলে নদীতে আবারও পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি জানান।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, গাজীখালী নদীর অস্তিত্ব রক্ষা এবং পরিবেশ, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে দ্রুত কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here