ফরিদপুরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন, দাম কমে লোকসানে কৃষক

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

 

দেশের অন্যতম প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুরে চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় হাজারো চাষি লোকসানের মুখে পড়েছেন।

ফরিদপুরের নয়টি উপজেলাতেই পেঁয়াজের চাষ হলেও ভাঙ্গা, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় এর আবাদ সবচেয়ে বেশি। কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি মণ পেঁয়াজ বর্তমানে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, অথচ উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। ফলে বিক্রির অর্থে উৎপাদন ব্যয়ও উঠছে না।

কৃষকদের ভাষ্য, সার, ডিজেল, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পেলেও পেঁয়াজের দাম দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী। এতে অনেকেই ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এবং আগামী মৌসুমে পেঁয়াজ চাষ থেকে সরে দাঁড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের কৃষক তৈয়াব মুন্সি বলেন, “বীজ, সার, শ্রমিক ও সেচের খরচ মিলিয়ে মূলধনই উঠছে না। এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এখন এক কেজি গরুর মাংসও কেনা যায় না। এভাবে চললে চাষাবাদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হব।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের মতে, পর্যাপ্ত এয়ার ফ্লো মেশিন ও আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কৃষকদের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোল্লা মো. মামুন বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর উপজেলায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন। উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। কৃষকদের মজুদকৃত পেঁয়াজ শেষ হলে বাজারদর ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান জানান, বাজারমূল্য নির্ধারণ কৃষি বিভাগের আওতায় নয়।

তবে কৃষকদের সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৩০টি এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৭০০টি বিতরণ করা হয়েছে এবং চলতি বছরে আরও আড়াই হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here