অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শোক ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত হয়েছে। শুক্রবার ১০ মহররম উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নফল রোজা, নামাজ, দোয়া, দান-খয়রাত ও জিকির-আসকারের মাধ্যমে দিনটি পালন করেন।
হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের শাহাদাতের স্মরণে মুসলিম বিশ্বে দিনটি গভীর শোকের সঙ্গে পালিত হয়। সত্য, ন্যায় ও মানবতার পক্ষে তাঁর আত্মত্যাগ ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু জানান, ‘ভাটির অলী’ হিসেবে পরিচিত হযরত সৈয়দ আবদুল করিম আল-হোসাইনী (রহ.) ওরফে সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেব ১৮৩৪ সালে নিজ বাড়িতে হোসাইনী মোকাম (ইমামবাড়া) প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৩৫ সাল থেকে সেখানে মহররমের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রায় ১৯১ বছর ধরে বংশপরম্পরায় এ ঐতিহ্য সংরক্ষিত হয়ে আসছে।
তিনি বলেন, মহররমের চাঁদ দেখা থেকে শুরু করে ১০ মহররম পর্যন্ত বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে নিশান উত্তোলন, রোজা পালন, মিলাদ, কারবালার ইতিহাস আলোচনা, জারি গান, মার্সিয়া, মাতম, ফাতেহা ও তাবারক বিতরণ। আশুরার দিন বিকেলে বিভিন্ন মোকাম থেকে তাজিয়া মিছিল বের হয়ে মধ্য অষ্টগ্রামের কারবালা প্রাঙ্গণে সমবেত হওয়ার মাধ্যমে ১০ দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
তিনি আরও বলেন, অষ্টগ্রামের এই ঐতিহ্যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষও অংশগ্রহণ করেন, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বর্তমানে সৈয়দ আহমেদুল কবির প্রিন্স এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
বক্তারা বলেন, পবিত্র আশুরা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। কারবালার আত্মত্যাগ অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে সত্যের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়ে আসছে। তারা আশুরার শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

