সড়ক বিভাগের সিন্ডিকেটের কারণে কুড়িগ্রামে বাইপাস সড়কের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রস্তাবিত বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পকে ঘিরে অনিয়ম ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়ক বিভাগের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি করে একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উলিপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমির মধ্যে স্বল্প সময়ে কয়েকটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ভবনের বেশিরভাগই বসবাসের উপযোগী নয় এবং ভবিষ্যতে অধিগ্রহণ ক্ষতিপূরণ আদায়ের উদ্দেশ্যে এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।

উলিপুর শহরের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে হেলিপ্যাড মোড় থেকে গুনাইগাছ মোড় পর্যন্ত একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী আমিন মোড় এলাকায় একটি গোলচত্বরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পিত সড়কের সম্ভাব্য রুট জেনে আগে থেকেই কিছু ব্যক্তি জমি কিনে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করেন এবং পরে সেই জমিগুলো প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হক বলেন, বর্তমান নকশা অনুযায়ী সড়ক নির্মাণ হলে বহু পরিবার উচ্ছেদের ঝুঁকিতে পড়বে এবং অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়বে। অন্যদিকে শামসুল হক নামে আরেক বাসিন্দা দাবি করেন, রেলওয়ের অব্যবহৃত জমি ব্যবহার করে বিকল্প রুটে সড়ক নির্মাণ করা হলে মানুষের ক্ষতি কম হবে এবং সরকারের অর্থও সাশ্রয় হবে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এলাকার বাসিন্দা সাহেরা বেগম অভিযোগ করেন, কিছু ভবন নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং সেগুলোতে কেউ বসবাসও করেন না। তার মতে, ক্ষতিপূরণের সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সড়ক বিভাগের হিসাবরক্ষক মো. আব্দুর রাজ্জাকসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বলেন, তারা বৈধভাবে জমি কিনে ব্যক্তিগত বসবাসের জন্য ভবন নির্মাণ করেছেন। কাকতালীয়ভাবে এসব জমি প্রকল্পের আওতায় পড়েছে বলে তাদের দাবি।

কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মো. নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, প্রায় ৬৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে উলিপুর সংযোগ সড়ক প্রকল্পটি ২০২৩ সালে অনুমোদন পায়। স্থানীয় আপত্তির কারণে জমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ১০ কোটি টাকা ফেরত গেছে। ফলে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সড়ক বিভাগের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here