ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :
পাবনার ঈশ্বরদী পৌর এলাকার ইস্তা ভেলুপাড়া গ্রামে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নির্মাণাধীন আর.বি রাইস ব্রানওয়েল মিলের কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ আইন লঙ্ঘন এবং জনস্বার্থ উপেক্ষা করে মিলটির কার্যক্রম চালুর অনুমোদনের প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
শনিবার (২০ জুন) বেলা ১১টায় ‘ঈশ্বরদী উপজেলা পরিবেশ রক্ষা কমিটি ও পরিবেশবাদী সচেতন জনতা’ ব্যানারে ইস্তা ভেলুপাড়া এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ কয়েকশ’ এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা পরিবেশ রক্ষা কমিটির সহ-সভাপতি শামীম আহমেদ। তিনি বলেন, এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে ২০১৮ সাল থেকে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় রাইস মিল ও ব্রানওয়েল মিল স্থাপনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন স্থানীয়রা।
তিনি জানান, আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০২২ সালে পাবনা পরিবেশ অধিদপ্তর উপজেলার বড়ইচারা এলাকার বাসিন্দা মধু বিশ্বাসের নির্মাণাধীন আর.বি রাইস ব্রানওয়েল মিলের অবস্থানগত ছাড়পত্রের আবেদন নামঞ্জুর করে। পরে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে আপিল করলে তা শর্তসাপেক্ষে মঞ্জুর করা হয়।
শামীম আহমেদের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়ার আগেই মিলের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু হলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে। কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া, ছাই, বর্জ্য ও দূষিত পানি স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য, কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে।
তিনি আরও বলেন, “ব্যক্তিগত স্বার্থে বৃহত্তর জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা আমরা মেনে নিতে পারি না। তাই মন্ত্রণালয়ের আপিল মঞ্জুরের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।”
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, দাবি আদায় না হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আব্দুস সাত্তার, শরিফা খাতুন, তরিকুল ইসলাম, আলহাজ তুহিন হোসেন, দুলাল মণ্ডল, হাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অন্যদিকে, আর.বি রাইস ব্রানওয়েল মিলের মালিক মধু বিশ্বাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নতুন করে কোনো আবেদন করা হয়নি; পূর্বের আবেদনটিই শর্তসাপেক্ষে পুনর্বিবেচনায় আনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তিনি আইন ও বিধি মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে এ প্রকল্পের বিরোধিতা করে এলাকার উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে।

