কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকিট বাণিজ্যের অভিযোগ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে টিকিট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে সরকারি নির্ধারিত টিকিট মূল্য ৩ টাকা। তবে বাস্তবে রোগীদের কাছ থেকে ৫ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারে কোথাও টিকিটের মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা হয়নি। কাউন্টারে দায়িত্বরত বাবলী রায় ও সুজন কুমার রায়ের কাছে টিকিট চাইলে তারা ৫ টাকা দাবি করেন। পরে ২০ টাকার নোট দিলে ১৫ টাকা ফেরত দিয়ে ৫ টাকার বিনিময়ে টিকিট প্রদান করা হয়।

অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে তারা টিকিটের মূল্য ৫ টাকা বলে দাবি করেন। তবে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর বাবলী রায় বলেন, তিনি কখনো ৫ টাকা নেন না। তাদের পদবি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানান, তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী নন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগীও একই অভিযোগ করেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা রোগীরা জানান, তাদের কাছ থেকেও ৫ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪৫০ থেকে ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। সে হিসাবে প্রতিটি টিকিটে অতিরিক্ত ২ টাকা আদায়ের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং বছরে কয়েক লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

এদিকে হাসপাতালের ১০৭ নম্বর কক্ষে গিয়ে দায়িত্বরত চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষার পরও তিনি কক্ষে উপস্থিত হননি। ওই সময় বেশ কয়েকজন রোগী চিকিৎসকের অপেক্ষায় ছিলেন।

এক্স-রে বিভাগেও রোগীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও দায়িত্বরত মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করেন, এক্স-রে মেশিনের ফিল্ম না থাকায় তাকে পরের দিন আসতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হবে। এক্স-রে সেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, ফিল্মের সংকট এবং বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় সেবায় কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে রোগীদের হয়রানি বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here