ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ভুয়া দাতা ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে এক দিনমজুর দম্পতির বসতভিটার জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে জানায়, বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় তারা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডিমলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার কে এম সুজা উদ্দিন পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে থাকায় গত ৭ এপ্রিল থেকে ৯ জুন পর্যন্ত চলতি দায়িত্ব পালন করেন নীলফামারী সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুম।
এ সময়ের মধ্যে গত ৯ জুন ডিমলা সদর ইউনিয়নের উত্তর তিতপাড়া গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরেজা বেগম ও তার স্বামী সিরাজুল ইসলামের বসতভিটার ৭ শতক জমি জাল কাগজপত্র ও ভুয়া দাতার মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। জমিটির বিএস খতিয়ান নম্বর ১৯৮৯ এবং দাগ নম্বর ১২।
অভিযোগ অনুযায়ী, একই গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে বাবুল হোসেন জাল দলিল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ২৬৬৩ নম্বর দলিলের মাধ্যমে জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই না করেই দলিল সম্পাদন করেন। এতে প্রায় ২৫ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা তাদের একমাত্র বসতভিটা নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমি প্রায় ২৫ বছর আগে জমিটি ক্রয় করে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছি। জমিটির হাল রেকর্ডও আমার স্ত্রী নুরেজা বেগমের নামে রয়েছে। অথচ ভুয়া ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে আমাদের বসতভিটা অন্যের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দাবি করছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্টরা কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই না করেই দলিল রেজিস্ট্রি করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, “যদি সত্যিই এ ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দলিল বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “গত ৯ জুন স্থানীয় লোকজন সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আমার কার্যালয়ে এসেছিলেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, জালিয়াতির মাধ্যমে বসতভিটা রেজিস্ট্রির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন।
উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের আগে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

