বাগেরহাট প্রতিনিধি :
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ১০ শয্যা বিশিষ্ট ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)। স্থানীয় জনগণের বহুল প্রত্যাশিত এই সেবার উদ্বোধন করা হয় রোববার বেলা ১১টায়। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধন ঘোষণা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালের অবকাঠামো দীর্ঘদিন আগে প্রস্তুত হলেও জনবল সংকট ও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে আইসিইউ সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি।
আইসিইউ চালুর ফলে এখন থেকে গুরুতর অসুস্থ রোগীরা জেলা পর্যায়েই বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এর আগে উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকেই খুলনা কিংবা ঢাকায় যেতে হতো, যা সময় ও ব্যয়ের দিক থেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
তবে আইসিইউ চালু হলেও হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবায় এখনও বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, একটি পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল, ২৪ ঘণ্টা সচল প্যাথলজি সুবিধা এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, আইসিইউ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও আর্থিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে এখনও কিছু ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সের সংকটও বিদ্যমান।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে এখনো সিটিস্ক্যান, সিসিইউ এবং কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো চালু হয়নি। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, পর্যায়ক্রমে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সেবার ঘাটতি পূরণে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আইসিইউ ইউনিটকে পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
সিভিল সার্জন ডা. আ. স. মো. মাহবুবুল আলম হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের রোগীদের প্রতি আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে, ডায়ালাইসিস মেশিন, সিটিস্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সরঞ্জামের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আইসিইউ চালু হওয়া বাগেরহাটের স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে এই সেবার মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা জরুরি। এসব চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা গেলে জেলার মানুষ স্থানীয় পর্যায়েই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

