সিলেট প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া গ্যাসক্ষেত্রে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণের ২৯ বছর পূর্ণ হলো আজ রোববার (১৪ জুন)। ১৯৯৭ সালের এই দিনে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাটি দেশের জ্বালানি খাত, পরিবেশ, বনাঞ্চল ও স্থানীয় জনজীবনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এখনও তারা যথাযথ ক্ষতিপূরণ কিংবা ন্যায়বিচার পাননি।
তৎকালীন সময়ে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনাকারী মার্কিন কোম্পানি অক্সিডেন্টালের খননকাজ চলাকালে মাগুরছড়া গ্যাসকূপে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের ফলে কয়েকশ ফুট উচ্চতায় আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে তা জ্বলতে থাকে। এতে বনাঞ্চল, চা-বাগান, সড়ক, রেলপথ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বিভিন্ন গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে দাবি করা হয়েছে, এ ঘটনায় বিপুল পরিমাণ গ্যাস নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যেরও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। লাউয়াছড়া অঞ্চলের বনভূমি এবং বহু বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার প্রায় তিন দশক পরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকার মানুষ প্রত্যাশিত ক্ষতিপূরণ পায়নি। একই সঙ্গে জাতীয় সম্পদের ক্ষতির বিষয়েও কার্যকর সমাধান হয়নি বলে তারা মনে করেন।
মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির স্মরণে প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন কর্মসূচি পালন করছে। তারা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং এলাকার উন্নয়নমূলক দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।
পরিবেশ ও বন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, প্রাকৃতিক বন ও জীববৈচিত্র্যের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জ্বালানি খাতে আরও সতর্কতা, জবাবদিহিতা এবং পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

