সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
তাহাফফুজে দ্বীন পরিষদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতী মুহাম্মাদ জাকির হুসাইন ফরিদী এবং মহাসচিব মুফতী মুস্তাফিজুর রহমান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারু-কারুকলা অন্তর্ভুক্ত করার সরকারি উদ্যোগের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ২০২৭ সাল থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ নামে নতুন পাঠ্যবই যুক্ত করা এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শিল্প ও সাংস্কৃতিক বিষয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ ধর্মপ্রাণ অভিভাবকদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও পারিবারিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সন্তানদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিভাবকদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান রাখা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক পর্যায়ে মূলত ভাষা, গণিত, বিজ্ঞান, নৈতিক শিক্ষা ও জীবনমুখী দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংবিধান অনুযায়ী ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমও সেই স্বাধীনতার প্রতি সম্মান রেখে পরিচালিত হওয়া উচিত। কোনো শিক্ষার্থীকে তার বিশ্বাসের পরিপন্থী কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধ্য করা উচিত নয় বলে তারা মত দেন।
তাহাফফুজে দ্বীন পরিষদ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাবিত উদ্যোগ পুনর্বিবেচনা এবং বাতিলের দাবি জানায়। একই সঙ্গে শিক্ষা নীতিনির্ধারণে অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও আলেম সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতির শেষাংশে তারা অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে তাদের মতামত প্রকাশের আহ্বান জানান এবং এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গঠনের প্রত্যাশা করেন যা নৈতিকতা, জ্ঞান ও মূল্যবোধসম্পন্ন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

