কামালপুর সীমান্তে উদ্ধার বৃদ্ধ ষষ্টি চন্দ্র বর্মন পরিবারের কাছে হস্তান্তর

বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি :

 

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর সীমান্তে বিএসএফের কথিত পুশইন ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসা বৃদ্ধ ষষ্টি চন্দ্র বর্মনকে উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বকশীগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে পরিবারের সদস্যদের কাছে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে একই দিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সীমান্তের ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের সামনে নো-ম্যানস ল্যান্ড এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে তাকে বকশীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়।

উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধ ষষ্টি চন্দ্র বর্মন রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চাঁন্দলাই গ্রামের বাসিন্দা এবং বাংলাদেশের নাগরিক। জানা যায়, গত প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে তিনি সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন ষষ্টি চন্দ্র বর্মন। কামালপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত ওই বৃদ্ধকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা, বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন এবং বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিজিবি তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের ছোট ভাই ভবানি বর্মন বলেন, “দুই মাস ধরে ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। আমরা খুব উদ্বিগ্ন ছিলাম। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে পাইনি। অবশেষে সীমান্তে আটকে থাকার ভিডিও দেখে তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হই। ভাইকে ফিরে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। যারা তাকে উদ্ধার ও আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”

তার ভাগিনা স্বপ্ননীল বলেন, “আমার খালুর মানসিক সমস্যা রয়েছে। তিনি মাঝেমধ্যে কাউকে কিছু না বলেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। প্রায় দুই মাস ধরে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। সীমান্তে আটকে থাকার খবর ও ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে আমরা তাকে শনাক্ত করি। দীর্ঘদিন পর তাকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সবাই স্বস্তি পেয়েছে। এখন আমরা তাকে নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হব।”

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন জানান, জামালপুর ৩৫ বিজিবির ধানুয়া কামালপুর কোম্পানি কমান্ডার বিল্লাল হোসেন এবং পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ষষ্টি চন্দ্র বর্মনকে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here