গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাসানোয়াগাঁওয়ে রাতভর অভিযান, বিদেশি সিগারেট ও নিষিদ্ধ প্রসাধনীও উদ্ধার; বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা রংছাতি ইউনিয়নে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় জিরাসহ কোটি টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য নবীজা (৪০) নামের এক নারীকে হাতেনাতে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।যেভাবে ধরা পড়ল চক্র কলমাকান্দা থানা পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রংছাতি ইউনিয়নের হাসানোয়াগাঁও এলাকা দিয়ে চোরাচালানের খবর পাচ্ছিলেন তারা। বুধবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার ওসির নেতৃত্বে একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানে একটি আধাপাকা বাড়ির গোপন কক্ষ থেকে বস্তাভর্তি ভারতীয় জিরা, বিদেশি সিগারেট, ভারতীয় নিষিদ্ধ প্রসাধনী ও কসমেটিকস উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, এসব পণ্য রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পেরিয়ে দেশে আনা হয়েছিল। জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮-১০ লাখ টাকা।
ঘটনাস্থল থেকে নবীজা নামের ওই নারীকে আটক করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান চক্রের হয়ে কাজ করতেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশ যা বলছে কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান বলেন,“সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান বন্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। আটক নবীজার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর ২৫-বি ধারায় মামলা রুজু করে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে নেত্রকোনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
তিনি আরও জানান, আটক নারী জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের কয়েকজন সদস্যের নাম বলেছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই হাসানোয়াগাঁও ও আশপাশের এলাকা দিয়ে রাতের বেলা অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য আনা-নেওয়া হতো।
এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছিল, তেমনি স্থানীয় বাজারে বৈধ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। পুলিশের এই অভিযানে আমরা খুশি। এখন যদি নিয়মিত অভিযান চলে, তাহলে চোরাচালান অনেকটা কমে যাবে,” বলেন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হক।কলমাকান্দা উপজেলার প্রায় ৩০ কিলোমিটার সীমান্ত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সাথে যুক্ত।
দুর্গম ও নদী-নালা বেষ্টিত হওয়ায় এ অঞ্চল দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জিরা, চিনি, সিগারেট, মাদক ও প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্য চোরাচালান হয়ে আসছে। গত ৬ মাসে কলমাকান্দা থানা পুলিশ অন্তত ৭টি বড় অভিযান চালিয়ে চোরাচালান পণ্য ও একাধিক আসামি আটক করেছে।
পুলিশের দাবি, সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিজিবির সাথেও সমন্বয় করে যৌথ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।এ ঘটনায় এলাকায় চোরাচালান চক্রের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

