নাটোরের মাটিতে বাণিজ্যিক আকারে পালন হচ্ছে মরুভূমির দুম্বা

নাটোর প্রতিনিধি :

 

দুম্বা মরুভূমি অঞ্চলের প্রাণী।বর্তমানে এই প্রাণীটি এখন বাণিজ্যিক পালন করা হচ্ছে নাটোরের সবুজ মাটিতেই। জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার খামার পাথুরিয়া গ্রামে সফল খামারি হান্নান সরকারের হাত ধরে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী এ দুম্বার খামার।

সুঠাম দেহ আর সুস্বাদু মাংশে ভরপুর মরুভূমির এই প্রাণীটি কোরবানির জন্য চাহিদার তুঙ্গে।

২০১০ সালের দিকে দেশীয় ছাগল পালন দিয়ে শুরু। এরপর গরু। তবে এই অঞ্চলে প্রচুর খামার থাকায় গরু-ছাগলে তেমন সম্ভাবনা খুঁজে পাননি তিনি। মাথায় আসে ব্যতিক্রম কিছু করার চিন্তা। সেই চিন্তা থেকে খামারে যুক্ত করেন মরু অঞ্চলের গারল। এই পশু পালনে আশার সঞ্চার ঘটে। গারলের সঙ্গে খামারে যুক্ত করেন দুম্বা। প্রাথমিক পর্যায়ে ভারত থেকে নারী ও পুরুষ জাতের সমন্বয়ে ৩০টি দুম্বা আনা হয়। লাভের মুখ দেখায় বাড়ানো হয় খামারের পরিধি। এখন ৩২ বিঘার বিশাল আয়তনে হান্নানের দুম্বার খামার। দুম্বার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬০টি।

খামারি হান্নান সরকার বলেন, খামারে বর্তমানে ৪০টির বেশি দুম্বা কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জাত, আকার ও গঠনভেদে এসব দুম্বার দাম হাঁকানো হচ্ছে ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে খামারে ক্রেতা আসছেন দুম্বা কেনার জন্য।

তিনি বলেন, যখন দুম্বা পালন শুরু করেছিলাম, তখন মানুষ নানা কটু কথাও বলেছে। তেমন সাড়াও মেলেনি। তবে তিনি ধৈর্য্য হারাননি। এখন বছরজুড়েই তিনি দুম্বা বিক্রি করছেন। তবে কোরবানি আসলে দুম্বার চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণে। আবার অনেকে শুধু এই ব্যতিক্রমী প্রাণীটিকে এক নজর দেখার জন্যও দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন।

দুম্বা পালনে হান্নানের সাফল্য দেখে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। তার খামার থেকে দুম্বা নিয়ে অনেকে স্বল্প পরিসরে খামার শুরু করেছেন। হান্নান সরকার নিজের খামারের পাশাপাশি অন্য খামারিদের উৎপাদিত দুম্বাও বিক্রিতে সহায়তা করেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

তিনি জানান, গত কোরবানিতে নিজের এবং অন্য খামারিদের মিলিয়ে ৮০টি দুম্বা বিক্রি করেছিলেন। এ বছর ক্রেতাদের বিপুল সাড়া পাওয়ায় এই সংখ্যা গত বছরের চেয়ে ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন।

হান্নান সরকারের খামারের দুম্বাগুলো নিয়মিত পরিচর্যা করেন অন্তত ২৩ জন কর্মচারী। খামারের দুম্বার খাবার জোগান দেওয়ার জন্য তিনি নিজেই প্রায় ৭ বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করেছেন। জমির তাজা খাস কেটে খাওয়ানো হয়। পাশাপাশি প্রতিদিন দুই বেলা খড় ও ভূষি খাওয়ানো হয়। প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানোয় দুম্বা ভেতর থেকে শক্তিশালী হয়, মাংসও হয় সুস্বাদু।

খামারের শ্রমিক শফিকুল ইসলাম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, দুম্বার খামারে কাজ করা বেশ আনন্দের। প্রায় সবসময়ই ক্রেতা অথবা দর্শনার্থী থাকে। তিনি একদশক ধরে হান্নানের দুম্বার খামারে দুম্বা পরিচর্যায় নিয়োজিত আছেন। ঈদের কারণে এখন ব্যস্ততা বেড়েছে। পশুগুলোকে রোগমুক্ত রাখতে বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন তারা।

নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, দুম্বা মূলত গ্রীষ্মপ্রধান ও শুষ্ক অঞ্চলের প্রাণী হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের আবহাওয়াতেও এটি ভালোভাবে মানিয়ে নিচ্ছে। দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে দুম্বা পালন এখন আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রাণি সম্পদ অফিসের মাধ্যমে গুরুদাসপুরে বাণিজ্যিক দুম্বা খামারে সার্বক্ষণিক নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here