কেশরহাট পৌরসভায় স্থবিরতা কাটাতে নির্বাচনের তাগিদ এমপি মিলনের

কেশরহাট পৌরসভার উন্নয়ন স্থবিরতা ও ‘মব কালচার’ নিয়ে এমপি শফিকুল হক মিলনের ক্ষোভ প্রকাশ

রাজশাহী প্রতিনিধি :

 

কেশরহাট পৌরসভার উন্নয়ন স্থবিরতা, ঠিকাদারদের গাফিলতি এবং দেশজুড়ে গড়ে ওঠা ‘মব কালচার’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংস্কৃতি) নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পবা-মোহনপুরের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।

পৌরসভার বর্তমান অচলাবস্থা ও পরিকল্পনা খামতি কাটাতে সাবেক ও বর্তমান অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠনের তাগিদ দেন এমপি। একই সাথে দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধি নিয়োগের দাবি জানানো হয়।

সোমবার (১৮ মে) বেলা ১১টায় কেশরহাট পৌরসভা প্রাঙ্গনে জনবান্ধব নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ ও আধুনিক পৌরসভা গঠনে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুধীজনের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন এমপি শফিকুল হক মিলন।

এসময় এমপি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন কেশরহাট পৌরসভায় দীর্ঘ দিন ধরে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং পরিকল্পনাবিদের তীব্র অভাব রয়েছে। সারা বাংলাদেশের পৌরসভাগুলোতে দৃশ্যমান উন্নয়ন হলেও কেশরহাটে কেন তা হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তোলা হয়।

তিন মাসের জন্য চুক্তি করা ঠিকাদারদের সমালোচনা করে বলা হয়, কোনো ঠিকাদারই সময়মতো ও সঠিকভাবে কাজ শেষ করেনি। অতীতে এই পৌরসভায় প্রচুর সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বাজারের প্রধান সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি এবং কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হয়নি।

এমপি আরো বলেন, দেশে ছড়িয়ে পড়া ‘মব কালচার’ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। এমপি বলেন, সর্বপ্রথম কেশরহাটের মাটি থেকেই এই ক্ষতিকর মব কালচার বর্জন করতে হবে। মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা, রাস্তায় গাছ কেটে ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এবং সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে রেখে নিজেরা ফায়দা লোটার এই অপসংস্কৃতি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

তিনি আরোও বলেন, বর্তমানে পৌরসভায় কোনো মেয়র বা কাউন্সিলর না থাকায় এক বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক শূন্যতা ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এই সংকট নিরসনে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান যে, সরকার খুব দ্রুতই এখানে নির্বাচনের কথা ভাবছে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতেই পৌরসভার দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

পৌরসভাকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসক মহোদয়ের কাছে কিছুটা সময় চেয়ে নেওয়া হয়েছে।
উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে আশ্বস্ত করে এমপি বলেন বর্তমানে তাৎক্ষণিক দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ না থাকলেও বসে থাকার সুযোগ নেই এবং পৌরসভার নতুন উন্নয়নমূলক কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। জনগণের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা প্রকাশ করে বলেন আপনারা আমার কাছে যাবেন কেন, আমিই আপনাদের কাছে আসব।

আগামী দিনে কেশরহাটের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জনগণকে সচেতনভাবে সৎ, যোগ্য ও সেবাধর্মী জনপ্রতিনিধি বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান এমপি মিলন।

অন্যদিকে কেশরহাটের তিলাহারী সরদার মোড় হতে রহিমের দোকান ইউনিব্লক সড়ক নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন রাজশাহী-৩ (পবা- মোহনপুর) সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। দুইটি অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা নিবার্হী অফিসার ফাহিমা বিনতে আখতার। উপস্থিত ছিলেন কেশরহাট পৌরসভা প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা।

মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদ, মোহনপুর উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজীম উদ্দিন সরকার, মোহনপুর উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার সাহা, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুম, উপসহকারী প্রকৌশলী রিপন আলী, উপসহকারী প্রকৌশলী মঞ্জুর হোসেন বিএনপি সহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও উপজেলা এল জিডি কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here