চট্টগ্রাম ব্যুরো :
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের একটি বহুতল ভবন কাগজে-কলমে আয়কর বিভাগের অফিস। তবে অভিযোগ উঠেছে, বছরের পর বছর সেই সরকারি অফিস ভবনের একাধিক ফ্ল্যাট পরিণত হয়েছে শীর্ষ কর কর্মকর্তাদের আবাসস্থলে।
২০১৫ সাল থেকে সিডিএ ২ নম্বর সড়কের ১৪ তলা পিএইচপি ভবনের ছয়টি ফ্ল্যাট কর কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। শুধু সরকারি ফ্ল্যাট ব্যবহারই নয়, বেতন থেকে বাড়িভাড়াও উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব হারাচ্ছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, আগ্রাবাদের সিডিএ ২ নম্বর সড়কে অবস্থিত পিএইচপি ভবনে ২০১৫ সাল থেকে আয়কর বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভবনটিতে কর অঞ্চল ১, ২, ৩ ও ৪-এর বিভিন্ন সার্কেল অফিস রয়েছে। তবে একই ভবনের একাধিক ফ্ল্যাট দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কর অঞ্চল ২ ও ৩-এর কর কমিশনাররা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে দুটি করে ফ্ল্যাট রেখেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কর অঞ্চল ২-এর কমিশনার সাধন কুমার রায় এবং কর অঞ্চল ৩-এর কমিশনার শাহীন আক্তার হোসেন এসব ফ্ল্যাট ব্যবহার করছেন। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন প্রায় ১ হাজার ৭০০ বর্গফুট। এসব ফ্ল্যাট আবাসিক কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বেতন থেকে সরকারি রেন্টও উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, কর অঞ্চল ২-এর কমিশনার সপ্তম তলায় দুটি ফ্ল্যাট নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। একইভাবে কর অঞ্চল ৩-এর কমিশনার দশম তলায় দুটি ফ্ল্যাট ব্যবহার করছেন। এ ছাড়া কর অঞ্চল ১-এর কমিশনার মঞ্জুর আলম ১২ তলার একটি ফ্ল্যাট এবং একই অঞ্চলের অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমান একই তলার আরেকটি ফ্ল্যাট ব্যবহার করছেন। সব মিলিয়ে ছয়টি ফ্ল্যাটের বিপরীতে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
তবে এই চিত্রের বাইরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কর অঞ্চল ৪, চট্টগ্রামের কমিশনার ফরিদ আহমেদ। আগ্রাবাদের ১ নম্বর সড়কে অবস্থিত রহিম ম্যানশনের ছয়তলা ভবনের চতুর্থ তলায় কমিশনারের জন্য বরাদ্দ বাসা তিনি গত এপ্রিল মাসে ছেড়ে দেন। মার্চ ২০২৬-এ দায়িত্ব নেওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অফিসকে আবাসিকভাবে ব্যবহারের যে প্রচলন ছিল, তা পরিবর্তন করে ওই স্থান অফিস হিসেবে ফিরিয়ে আনেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অতীতের কর কমিশনাররাও একইভাবে এসব ফ্ল্যাট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ব্যবহার করে এসেছেন।
এ বিষয়ে কর অঞ্চল ১-এর কমিশনার মঞ্জুর আলম বলেন, ‘এগুলো তো অনেক আগে থেকেই এভাবে চলে আসছে। সম্ভবত ২০১১ সাল থেকে। সকল কমিশনারের কাছেই এটা একটা প্রথার মতো। এটা শুধু আমার ক্ষেত্রেই হয়েছে, এমন কিন্তু নয়।’
ফোন করেও কর অঞ্চল ২-এর কমিশনার সাধন কুমার রায়কে না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে কর অঞ্চল ৩-এর কমিশনার শাহীন আক্তার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘এরকম কোনো ফ্ল্যাট আমার দখলে নেই।’
এ বিষয়ে জানতে এনবিআরের সদস্য (প্রশাসন) আহসান হাবিবকে ফোন করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

