চট্টগ্রামে বেপরোয়া ব্যাটারিচালিত রিকশা, নীরব ট্রাফিক পুলিশ: বাড়ছে দুর্ঘটনা ও যানজট

চট্টগ্রাম ব্যুরো :

চট্টগ্রাম নগরে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। মূল সড়কের যেখানে-সেখানে পার্কিং, উল্টো পথে চলাচল ও অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। অথচ এসব দেখেও যেন নীরব ভূমিকা পালন করছে ট্রাফিক পুলিশ। নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ বক্সের সামনেই ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো অবৈধভাবে পার্কিং করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে যানজট ও জনভোগান্তি।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর ব্যস্ততম বিমানবন্দর সড়ক, সিমেন্ট ক্রসিং, স্টিল মিল, কাঠগড়, চড়ুইহালদা, সি-বিচ পতেঙ্গা, ডোমপাড়া, আকমল আলী, টেকের মোড়, বড়পোল, ছোটপোল, আনন্দবাজার, বাদামতলী মোড়, চকবাজার, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, দুই নম্বর গেটসহ এক্সেস রোডের বিভিন্ন অংশে সারি সারি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে আছে। অনেক চালক আবার ট্রাফিক আইন অমান্য করে ব্যস্ত সড়কের উল্টো পথে যাত্রী নিয়ে চলাচল করছেন। বেপরোয়া গতিতে একে অপরকে ওভারটেক করতেও দেখা গেছে।

বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এসব ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে যায়। একইসঙ্গে প্যাডেলচালিত রিকশাগুলোও সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করলেও তারা কার্যত কোনো কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। ফলে নিয়ম ভাঙা যেন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

এদিকে আগ্রাবাদের ইপিজেড থানার সিমেন্ট ক্রসিং পুলিশ বক্সের সামনেই কয়েকটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে দীর্ঘসময় পার্কিং করে থাকতে দেখা গেছে। একইসঙ্গে পুলিশ বক্স থেকে কাঠগড় মহিলা কলেজ পর্যন্ত বিমানবন্দর সড়কের বড় একটি অংশজুড়ে চার চাকার লেগুনা যাত্রী তোলায় সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা জানান, প্রতিদিন অফিস ও স্কুল-কলেজের সময় এসব অবৈধ পার্কিং ও বেপরোয়া চলাচলের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে।

নগরবাসীর অভিযোগ, ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও ট্রাফিক প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তারা অবিলম্বে অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ, উল্টো পথে চলাচল বন্ধ এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here