কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে অঝোরে কান্নার ভিডিও ভাইরাল প্রেমিক-প্রেমিকার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

ভালোবাসার টানে ঘর ছেড়ে অজানার পথে পাড়ি দিয়েছিলেন এক তরুণ-তরুণী। একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন নিয়ে তারা বেরিয়ে পড়েন। তবে এই সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান তরুণীর পরিবার। মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার মা থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

বৈঠক বসে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদে। কিন্তু সেখানে উপস্থিত হয়েই কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হন প্রেমিক যুগল। জানিয়ে দেওয়া হয়, তাদের সম্পর্কের স্বীকৃতি মিলবে না এবং বিচ্ছেদের পথই বেছে নিতে হবে।

তবে কোনও পক্ষই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায় একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। উপস্থিত জনতা ও পারিবারিক চাপের মধ্যেও তাদের আবেগ থামানো যায়নি।

এই আবেগঘন মুহূর্তের একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

প্রেমিক মোঃ কবির হোসেন (১৯) কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের পদ্মার চর এলাকার মোঃ জাহিদুর ইসলামের ছেলে। প্রেমিকা রৌমারী উপজেলার রৌমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল মোঃ কবির হোসেন তার প্রেমিকাকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাদের সন্ধান পেতে ব্যর্থ হন। পরে তরুণীর মা মোছাঃ আজিরন বেগম রবিবার (০৩ মে) রৌমারী থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

মামলার পর বৃহস্পতিবার (০৭ মে) স্থানীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। এসময় তরুণীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় প্রেমিক-প্রেমিকা একে অপরকে ছাড়তে না চাওয়ায় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। উপস্থিত কেউ ওই দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ছেলে-মেয়ে প্রেম করে পালিয়েছিল। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে আমার এখানে বৈঠক হয়। কিন্তু ছেলে-মেয়ে কেউ কাউকে ছেড়ে যেতে রাজি ছিল না। এ নিয়ে কিছুটা ঝামেলার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কাওসার আলী বলেন, শুক্রবার রাতে ছেলে-মেয়েকে পরিষদ থেকে উদ্ধার করা হয়। এসময় অপহরণ মামলায় মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। আজ আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ওই তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুড়িগ্রামে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here