কুড়িগ্রামে জাল নিয়োগে ৩ মাদ্রাসা কর্মচারীর এমপিও বাতিল, সুপারের এমপিও স্থগিত 

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় সিরাজ উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসায় জাল নথিপত্রের মাধ্যমে পেছনের তারিখে নিয়োগ দেখিয়ে এমপিওভুক্ত করা তিন কর্মচারীর এমপিও বাতিল করেছে মাদ্রাসা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে মাদ্রাসা সুপার মোঃ ইউনুস আলীর এমপিও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না–সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজারহাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ কামরুল ইসলাম। এর আগে সোমবার মাদ্রাসা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা চলছে এবং জাল নিয়োগ ও এমপিও দুর্নীতি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

জানা যায়, নির্বাচিত কমিটি না থাকা সত্ত্বেও আগের অ্যাডহক কমিটিকে নির্বাচিত কমিটি দেখিয়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে গত বছরের নভেম্বর মাসে নিরাপত্তা কর্মী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ দেখিয়ে তাদের এমপিওভুক্ত করা হয়। বিষয়টি নজরে এলে মাদ্রাসা অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া যায়।

অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা কর্মী মোঃ মাহবুবুর রহমান, নিরাপত্তা কর্মী মোঃ আরিফুল ইসলাম এবং আয়া মোছাঃ হোসনে আরার এমপিও ইনডেক্স বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাদ্রাসা সুপার মোঃ ইউনুস আলীর এমপিও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং কেন স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না–সে বিষয়ে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, একটি জালিয়াত চক্র এবং কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এমপিও বাণিজ্য চলছিল।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন পদে কোনো বৈধ নিয়োগ ছাড়াই এমপিও দেওয়া হয়েছে, যা তদন্তে উঠে এসেছে।

এর আগে একই উপজেলার আরও কয়েকটি মাদ্রাসায় ভুয়া নিয়োগে এমপিও বাতিল করা হয়। তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না হওয়ায় অনিয়ম অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মাদ্রাসা সুপার মোঃ ইউনুস আলী দাবি করেন, তিনি অসুস্থ এবং দৈনন্দিন কাজ সিনিয়র শিক্ষক পরিচালনা করতেন। তাঁর স্বাক্ষর ব্যবহার করে নিয়োগ দেখানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক মোঃ সুলতান আলী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রাজারহাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলাম জানান, অধিদপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী তিন কর্মচারীর এমপিও বাতিল এবং সুপারের বিরুদ্ধে শোকজ জারি করা হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here