বরিশাল প্রতিনিধি :
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আন্ধারমানিক ইউনিয়নের একমাত্র স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে দুর্গম এই ইউনিয়নের হাজারো মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কেন্দ্রটিতে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে পাশের হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন। এতে সময়ের পাশাপাশি বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কেন্দ্রটিতে কবে সর্বশেষ নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে তা তারা নিশ্চিত নন। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা সমরেশ দায়িত্বে থাকলেও তাকে নিয়মিত পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
সরেজমিনে দেখা গেছে, কেন্দ্রটিতে রোগীর উপস্থিতি খুবই কম। অনেকেই জানেন না যে এখানে চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায়। গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রসবসেবার সুযোগ থাকলেও সচেতনতার অভাবে অনেকেই তা গ্রহণ করতে পারছেন না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে দূরবর্তী হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার মূল ভিত্তি। এসব কেন্দ্রে সাধারণ রোগের চিকিৎসা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদান ও পুষ্টি সেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও জনবল ও ওষুধ সংকটে তা ব্যাহত হচ্ছে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা দপ্তর সূত্রে জানা যায়, একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে সাধারণত সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটর ও ফার্মাসিস্টসহ তিনটি প্রধান পদ থাকার কথা। তবে আন্ধারমানিক কেন্দ্রটিতে এসব পদে ঘাটতি রয়েছে।
কেন্দ্রটির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা সমরেশ বলেন, জনবল ও ওষুধ সংকটের কারণে অনেক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। “আমি নিয়মিত উপস্থিত থেকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি,” বলেন তিনি।
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আবুল কালাম বলেন, জনবল সংকটের কারণে অনেক ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সীমিত জনবল দিয়েই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়িত্বে অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

