হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :
অকাল বৃষ্টি ও ব্যাপক জলাবদ্ধতায় কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। ধান কাটার মৌসুম শুরুর আগেই এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন বিল, নিচু জমি এবং বিস্তীর্ণ ধানক্ষেতে টানা বৃষ্টির পানি জমে থাকায় অনেক ক্ষেত এখন হাঁটু থেকে কোমর সমান পানির নিচে চলে গেছে। বিশেষ করে পানান বিলসহ আশপাশের এলাকা, পাশাপাশি লাখুহাটি, ডাংরী ও উত্তর গোবিন্দপুর এলাকাতেও একই ধরনের ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে।
এসব এলাকায় হাজার হাজার বিঘা জমির ধান এখন পানির নিচে ডুবে রয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকলে পাকা ধান অঙ্কুরিত হয়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে বছরের পুরো পরিশ্রমই মাঠেই শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ গোবিন্দপুরের কৃষক রোস্তম আলী বলেন, বৈশাখ মাসে এমন বৃষ্টি জীবনে প্রথম দেখলাম। চারদিকে পানি, ধানক্ষেত তলিয়ে যাচ্ছে। এখন কী করবো বুঝতে পারছি না। বছরের পরিশ্রম চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আগে এই সময় আমরা মাঠে ধান মাড়াই করতাম, খড় শুকিয়ে ঘরে নিতাম।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এখন জমিতে হাঁটু পানি। এবার গরুর খড়েরও বিরাট সংকট হবে বুঝতেছি। একই এলাকার কৃষক সোহরাব মিয়া জানান, তার প্রায় ৪ কানি জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, “এভাবে পানি থাকলে আর ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে না। সবকিছু চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লাখুহাটি, ডাংরী ও উত্তর গোবিন্দপুরের কৃষকরাও একই দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একসাথে এত বেশি জমিতে জলাবদ্ধতা আগে খুব কমই দেখা গেছে। ধান পেকে গেলেও মাঠে পানি থাকায় কাটার সুযোগ মিলছে না।
এদিকে ধান কাটার সময় কৃষি শ্রমিক সংকট ও উচ্চ মজুরিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে দৈনিক শ্রমিক মজুরি ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা হওয়ায় অনেক কৃষকই শ্রমিক নিয়োগ দিতে পারছেন না।
কৃষি শ্রমিক চাঁন মিয়া বলেন, এবার মজুরি একটু বেশি পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু ক্ষেতে পানি থাকায় ধান কাটতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে মাঝে মাঝে কাজে যেতে পারি না, কাজ করতেও কষ্ট হয়। বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য আলাল মিয়া বলেন, এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
অনেক ক্ষেতেই ধান পেকে গেলেও কাটার সুযোগ নেই। দ্রুত সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা এবং ন্যায্য মূল্যে ধান ক্রয়ের উদ্যোগ না নিলে কৃষকরা চরম আর্থিক সংকটে পড়বেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জরুরি ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, কৃষিযান্ত্রিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তাদের বছরের পরিশ্রমের ফসল মাঠেই নষ্ট হয়ে না যায়।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

