গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) পূর্বাচলে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ডালিম মিয়া অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ভূমিদস্যু জুয়েল গং দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া দলিল, খাজনা খারিজের জাল কাগজপত্র এবং রাজউকের কাজ সংক্রান্ত নকল নথি তৈরি করে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে।
তিনি জানান, পূর্বাচল এলাকার প্লট নং-১২, সেক্টর-১৫, রোড নং-৪০৭ সংক্রান্ত জমি নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। জমিটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা হলেও জুয়েল গং মাত্র ৬০ লক্ষ টাকার ভিত্তিহীন বায়না দলিল দেখিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করে এবং পরবর্তীতে অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডালিম মিয়া আরও অভিযোগ করেন, গত ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে মেঘবাড়ি রিসোর্টের পশ্চিম পাশে তাকে অপহরণ করা হয়। সেখানে দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে জোরপূর্বক জমির কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে এরশাদ, বায়জিদ, জাকির, জুয়েল, আলামিন ও হৃদয় দাসসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
তিনি দাবি করেন, কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে এসে পরিবারের সদস্যদের অবহিত করেন এবং পরে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে কালিগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১০, তারিখ: ০৮/০৩/২০২৬)।
এছাড়া তিনি বলেন, জুয়েল গংয়ের কল রেকর্ড থেকে অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ ভাগাভাগির প্রমাণ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ডালিম মিয়া দাবি করেন, তারা এখনো পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখলে থাকলেও একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র পরিকল্পিতভাবে পূর্বাচল এলাকায় একাধিক ব্যক্তির জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখল করছে।
তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসন ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমরা আমাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি রক্ষায় ন্যায়বিচার চাই। ভূমিদস্যুদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে আমাদের জমি রক্ষা করা হোক।”
এ ঘটনায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

