নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরগুনা সদর উপজেলার ১০ নম্বর নলটোনা ইউনিয়নের আজগরকাঠী গ্রামে বিষখালী নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ কয়লা চুল্লিগুলো যেন এক অদৃশ্য ক্ষমতার বলয়ে আবদ্ধ। একাধিকবার জরিমানা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান—সবকিছুই যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে, কিছুদিন বন্ধ থাকার পরই আবার চালু হচ্ছে এই পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম। প্রশ্ন উঠছে—কোথায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যকর নজরদারি? কেন প্রশাসন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে?
এই অবৈধ কয়লা চুল্লিগুলো থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া প্রতিনিয়ত দূষিত করছে আশপাশের বাতাস। এতে থাকা কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস স্থানীয় মানুষের শ্বাসযন্ত্রের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ব্রংকাইটিসসহ নানা রোগ। দীর্ঘমেয়াদে এই দূষণ হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে। শুধু মানুষই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও কৃষি পরিবেশ।
বিষখালী নদীর তীরবর্তী এই কার্যক্রম নদীর পানিকেও দূষিত করছে। কয়লা পোড়ানোর বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ মিশে যাচ্ছে পানিতে, যা মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক হুমকি। এতে স্থানীয় জেলেদের জীবিকাও পড়ছে চরম ঝুঁকির মুখে। নদীভিত্তিক এই অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ধারাবাহিক ব্যর্থতা। জরিমানা আদায়ের পরও যদি একই অবৈধ কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়, তবে তা স্পষ্ট করে প্রশাসনিক দুর্বলতা, সমন্বয়হীনতা কিংবা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ার ইঙ্গিত দেয়। শুধুমাত্র জরিমানা নয়, স্থায়ীভাবে এসব চুল্লি বন্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা, নিয়মিত তদারকি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে – পরিবেশ রক্ষা কেবল একটি দপ্তরের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্রের সার্বিক দায়বদ্ধতার অংশ। অথচ বাস্তব চিত্র ভিন্ন—স্থানীয় জনগণের অভিযোগ উপেক্ষিত, পরিবেশ আইন লঙ্ঘনকারীরা বহাল তবিয়তে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহতা আরও প্রকট হবে।
এখনই সময় কঠোর অবস্থান নেওয়ার। অবৈধ কয়লা চুল্লিগুলো সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, পরিবেশ ধ্বংসের এই নীরব বিপর্যয় একসময় বৃহৎ মানবিক সংকটে রূপ নেবে—যার দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ থাকবে না।
পরিবেশ অধিদপ্তর বরগুনা’র সহকারী পরিচাল হায়াত মাহমুদ রকিব বলেন – আবার চালু হলে তাদের বিরুদ্ধে পুনরায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে এবং পরবর্তীতে আবার চালু হলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের সহ আরো কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর, বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক জনাব মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম এবিষয়ে বলেন — আমরা ইতোমধ্যে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেছি এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়েছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জরিমানাকে উপেক্ষা করে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আইনবিরোধী।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

