গাজীপুর প্রতিনিধি :
দেশের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও টেকসই করার লক্ষ্যে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) উদ্ভাবিত স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও চিকন আউস ধানের নতুন জাত ‘জিএইউ ধান-৪’ এর উৎপাদন কলাকৌশল বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ ও বীজ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্সে গাকৃবির বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গাজীপুর সদর উপজেলার প্রায় ৪০ জন কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন। গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্বে তাত্ত্বিক আলোচনায় ‘জিএইউ ধান-৪’ এর বৈশিষ্ট্য, সম্ভাবনা ও চাষাবাদ পদ্ধতি তুলে ধরা হয়। দ্বিতীয় পর্বে মাঠ পর্যায়ে হাতে-কলমে প্রদর্শনের মাধ্যমে ধানের সঠিক ব্যবস্থাপনা, সার প্রয়োগ, রোগ-পোকা দমন এবং ফসল সংগ্রহের সময়কাল সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন। এছাড়া বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের সহযোগী পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ মামুনুর রহমান। পরে অতিথিরা বক্তব্য প্রদান করেন।
ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ তার বক্তব্যে বলেন, “গবেষণা তখনই সফল হয়, যখন তার সুফল সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে যায়। ‘জিএইউ ধান-৪’ দেশের কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ।” তিনি পানির সঠিক ব্যবহার ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে টেকনিক্যাল সেশনে প্রফেসর ড. মোঃ মসিউল ইসলাম ‘জিএইউ ধান-৪’ এর উৎপাদন কলাকৌশল বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেন। একইসঙ্গে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক ধানটির উদ্ভাবন প্রক্রিয়া ও বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য তুলে ধরেন।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মাঝে ‘জিএইউ ধান-৪’ এর বীজ বিতরণ করা হয়। এ সময় কৃষকেরা নতুন জাতটি চাষের মাধ্যমে অধিক ফলন ও উন্নত মানের চিকন চাল উৎপাদনের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

