পিরোজপুর প্রতিনিধি :
বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অত্যন্ত শোকাতুর ও রক্তঝরা কালো দিন। ২০১৩ সালের এই দিনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক বিশ্ববরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন ও কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর সারা দেশে এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন গণবিক্ষোভ ফেটে পড়েছিল।
দেশবাসী ও কুরআনপ্রেমী সাধারণ মানুষ শুরু থেকেই আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিকে ‘মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে দেখে আসছিল। যখনই এই বরেণ্য আলেমের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়, তখন আর কেউ ঘরে বসে থাকতে পারেনি। ‘কুরআনের পাখি’র প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে সেদিন ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে রাজপথে নেমে আসেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের জনপদগুলো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, শান্তিকামী প্রতিবাদী জনতার ওপর তৎকালীন সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে।
বিভিন্ন তথ্যমতে, সেই কয়েক দিনে সারা দেশে শিশু-বৃদ্ধসহ ২৩৫ জন কুরআনপ্রেমী মানুষ শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেন। একজন নেতার প্রতি ভালোবাসার টানে এত বিশাল সংখ্যক মানুষের জীবন উৎসর্গ করার ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসে সত্যিই বিরল।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
ভক্ত ও অনুসারীদের দাবি, তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী আল্লামা সাঈদীর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও কুরআনের দাওয়াতকে স্তব্ধ করে দিতেই তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জনবিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে জালেমদের সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
কারান্তরীণ অবস্থায় এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর জনপ্রিয়তা ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা বহুগুণ বেড়ে গেছে। মানুষের বিশ্বাস— ‘যুদ্ধাপরাধ নয়, বরং কুরআনের দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই ছিল আল্লামা সাঈদীর অপরাধ’।
আজকের এই দিনে সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ আল্লামা সাঈদীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি সেই সকল ভাই-বোনদের স্মরণ করছে যারা তাঁর ভালোবাসায় নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।
মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা— তিনি যেন এই সকল বীর শহীদদের শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং আল্লামা সাঈদীকে জান্নাতের সবুজ পাখি হিসেবে কবুল করে নেন। শহীদের রক্তে রঞ্জিত এই জনপদকে যেন আল্লাহ ইসলামের জন্য কবুল করেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

