মেঘনায় দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ, জাটকা সংরক্ষণে মনপুরায় প্রস্তুতি

0
117
ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে দুই মাস নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ! / ছবি - এই বাংলা

মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি :

জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে মেঘনা নদীতে দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এ সময় নদীতে মাছ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা নদী-এর ভোলা জেলার চর ইলিশা থেকে মনপুরা উপজেলার চর পিয়াল পর্যন্ত শাহবাজপুর চ্যানেলের প্রায় ৯০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে এ এলাকায় সব ধরনের জাল ফেলা ও মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি নদী তীরবর্তী মাছঘাট ও বরফকলগুলোও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্য করে কেউ নদীতে মাছ ধরতে নামলে জেল-জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৪৭ জন। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫০ জন জেলে সরকারি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়সহ মোট চার মাস এসব জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির মাধ্যমে চাল বিতরণ করা হবে, যাতে তারা বিকল্প সহায়তা পেয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।

জেলেদের সচেতন করতে নদী ও উপকূলবর্তী এলাকায় মাইকিং, পোস্টারিংসহ বিভিন্ন প্রচারণা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে তারা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন, তবে বরাদ্দকৃত চাল দ্রুত বিতরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মনপুরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল বনিক বলেন, “ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রতিদিন নদীতে অভিযান পরিচালিত হবে। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম সফল হলে চলতি বছর ইলিশ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এ উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি জীবিকাও সুরক্ষিত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here