বরিশাল ব্যুরো :
দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার পর অবশেষে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন বরিশাল বিআরটিএর সাবেক সহকারী পরিচালক এমডি শাহ আলম। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক শেখ ফারুক হোসেন তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে আদালতের আদেশের পর আদালত চত্বর ত্যাগের সময় ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। পুলিশি পাহারায় থাকা অবস্থায় ছবি তুলতে গেলে দৈনিক মতবাদ-এর ফটো সাংবাদিক আব্দুর রহমানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে শাহ আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিক ও আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
দুদক সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্বকালীন সময়ে বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে অন্তত আড়াই হাজার যানবাহনের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে শাহ আলমের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে পিরোজপুরে এক হাজার ৮১টি, ঝালকাঠিতে ৯৩৩টি এবং বরিশালে ৩৪৪টি অবৈধ রেজিস্ট্রেশন শনাক্ত করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, গত আট বছরে অবৈধ রেজিস্ট্রেশন বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। এমনকি ২০২২ সালে তদন্ত চলাকালীন সময়েও ক্ষমতার অপব্যবহার করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৮৯টি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বরিশাল থেকে সম্পন্ন করার অভিযোগ রয়েছে।
আদালতের নির্দেশে শাহ আলম কারাগারে গেলেও বিআরটিএর ভেতরে তার গড়ে তোলা একটি সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ভুয়া রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত হাজারো যানবাহন সড়কে চলাচল করছে, যা জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই ঘটনায় দ্রুত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

