উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সরকারি বিপুল বিতরণের মাঝেও বরিশালে চালের বাজার লাগামহীন

0
177

বরিশাল ব্যুরো :

 

আমন মৌসুম প্রায় শেষ হলেও বরিশালের চালের বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

উদ্বৃত্ত উৎপাদন এবং সরকারের স্বল্পমূল্য ও বিনামূল্যে বিপুল চাল বিতরণের পরও বাজারে লাগামহীন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ২৪ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে এবং উদ্বৃত্ত রয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টন। অথচ বাজারে এই উদ্বৃত্তের কোনো প্রভাব পড়ছে না। বরং গত এক মাসে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে।

 

অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ে ধানের দাম গত বছরের তুলনায় প্রতিমণে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কমেছে। উৎপাদন ব্যয় প্রতিমণ প্রায় ১,১০০ টাকা হলেও কৃষকরা ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ৯০০ থেকে ১,০৫০ টাকায়। ফলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভোক্তারা পাচ্ছেন না স্বস্তি।

গত ছয় মাসে সরকার বরিশাল খাদ্য অঞ্চলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ওএমএস, টিসিবি এবং অন্যান্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় লক্ষাধিক টন চাল স্বল্পমূল্যে ও বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। এরপরও চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

 

বর্তমানে বরিশালে মোটা চালের কেজি ৫০ টাকার বেশি, মাঝারি চাল ৬০ টাকা এবং মিনিকেট চাল ৭৮ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চালকল মালিক ও পাইকারদের একটি সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, চালের মূল্য বৃদ্ধি অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামকেও প্রভাবিত করছে। শীতকালীন সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের দামও গত বছরের তুলনায় বেশি থাকলেও কৃষক মাঠ পর্যায়ে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না।

ফলে রেকর্ড উৎপাদন সত্ত্বেও কৃষক ও ভোক্তা—দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here