ধান ও পাটের ঐতিহ্য পেরিয়ে এবার শুকনা ভুট্টা ও সাবুদানা দিয়ে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে নতুনত্ব এনেছেন নাটোরের প্রতিমাশিল্পীরা। শারদীয় দুর্গোৎসব শুরুর আগেই স্থানীয় শস্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণে তৈরি এসব প্রতিমা দেখতে মণ্ডপগুলোতে ভিড় করছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা।
নাটোর শহরের উত্তর চৌকিরপাড়ের ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী রামচন্দ্র মন্দিরে এবার নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। প্রতিমাশিল্পী নীলদাস ও পূজা আয়োজক কমিটির তরুণ সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাটির প্রতিমার গায়ে নিপুণভাবে বসানো হচ্ছে শুকনা ভুট্টার দানা। দুর্গাদেবীর পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা সাজানো হয়েছে ভুট্টা দিয়ে। বাদ যায়নি সিংহ ও অসুরের অবয়বও। ভুট্টার সোনালি আবরণে প্রতিমাগুলোকে দূর থেকে ঝলমলে দেখাচ্ছে।
প্রতিমা তৈরির কাজে যুক্ত শিল্পীরা জানান, এ কাজে প্রায় ১০০ কেজি ভুট্টা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি ভুট্টার দানা আলাদাভাবে কেটে আঠা দিয়ে একে একে প্রতিমার গায়ে বসানো হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে রাতেও চলছে সাজসজ্জার কাজ।
নাটোরের আরেকটি মন্দিরেও দেখা গেছে ভিন্নধর্মী শিল্পকর্ম। সেখানে দুর্গাপ্রতিমার সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হচ্ছে সাবুদানা। মাটির কাজ শেষ হওয়ার পর প্রায় এক মাস ধরে প্রতিমায় সাবুদানা বসানোর কাজ চলছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কেজি সাবুদানা ব্যবহার করা হয়েছে। কাজ শেষ করতে আরও প্রায় ৫ কেজি সাবুদানা লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা সম্মিলিতভাবে প্রতিমা সাজানোর এ কাজে অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের ভাষ্য, ব্যতিক্রমী এই আয়োজন ঘিরে চারপাশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের কাছ থেকেও ভালো সাড়া মিলছে।