হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার আশাবাদী, চার সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বরিশাল ব্যুরো :

 

দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে এবং আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে সরকার আশাবাদী।

সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল সদর হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রী জানান, যেসব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগে। সাধারণত চার সপ্তাহের মধ্যে টিকার কার্যকারিতা তৈরি হয়। এরপর সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার বছর পরপর হামের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও ২০২০ সালের পর সেই ধারাবাহিকতায় ব্যাঘাত ঘটে। ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়। এর প্রভাবেই বর্তমানে দেশে হামের সংক্রমণ বেড়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

মন্ত্রী আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় সরকারের হাতে পর্যাপ্ত হামের ভ্যাকসিন মজুত ছিল না। তবে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে আকস্মিকভাবে বরিশাল সদর হাসপাতালে যান স্বাস্থ্য মন্ত্রী। হাসপাতালে প্রবেশের পর প্রথমে তিনি টিকিট কাউন্টার পরিদর্শন করেন। এসময় দায়িত্বে থাকা এক কর্মীকে অনুপস্থিত দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন।

পরে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ও ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। চিকিৎসকদের উপস্থিতি খাতা পরীক্ষা করার পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার মান, ওষুধ সরবরাহ এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। রোগীদের অভিযোগ ও সমস্যার কথাও মনোযোগ দিয়ে শোনেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে। হাসপাতালে অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

স্বাস্থ্য মন্ত্রীর আকস্মিক সফরকে ঘিরে বরিশাল সদর হাসপাতালে বাড়তি তৎপরতা দেখা যায়। এসময় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, হাসপাতাল প্রশাসনের সদস্য ও স্থানীয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here