কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় টানা প্রায় ৫২ ঘণ্টা ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সুমি আক্তার ও বেলাল হোসেন দম্পতি। তাদের সঙ্গে রয়েছে দুই শিশুসহ মোট ছয়জন। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিজিবি ও স্থানীয়দের অবস্থানের কারণে তারা এখনো সীমান্তের মাঝামাঝি শূন্যরেখাতেই আটকে আছেন।
জানা গেছে, গত রোববার ভোরে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও বড়াইবাড়ি-ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ কয়েকজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে কাঁটাতারের এপাশে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার কারণে তারা বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেননি। এরপর থেকেই তারা শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন।
মঙ্গলবার বেলা ১১টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী-শিশুরা সীমান্তের ভারতীয় অংশের কাছাকাছি খোলা জায়গায় অবস্থান করছিলেন। দুই দেশের মধ্যে কেউই তাদের গ্রহণ না করায় তারা অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সুমি আক্তার ও বেলাল হোসেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। কয়েক মাস আগে তারা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে বিএসএফ তাদের আটক করে সীমান্তের কাছাকাছি এনে রাখে বলে জানা যায়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিএসএফ একাধিক ব্যক্তিকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে, তবে তাদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে জটিলতা থাকায় বিজিবি তাদের গ্রহণ করেনি। একই সঙ্গে ভারতীয় পক্ষও তাদের ফেরত নেয়নি।
ঘটনার পর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। উভয় পক্ষই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সীমান্তে অবস্থান করা এসব মানুষকে খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে গয়টাপাড়া সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যে পরিবারটি শূন্যরেখায় অবস্থান করছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

