সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ, মামলা দায়ের

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ সাংবাদিককে পেটালেন প্রধান শিক্ষক

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি :

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় এক সাংবাদিককে কৌশলে ডেকে নিয়ে মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। আহত সাংবাদিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুরে উপজেলার কিসামত রণচন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আহত সাংবাদিক সাহেব আলী (৩৫) দৈনিক চট্টগ্রাম লাইভ পত্রিকায় কর্মরত। গত ৮ জুন তিনি “কিশোরগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের পর প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতি” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন।

এর পরদিন মঙ্গলবার সাংবাদিক সাহেব আলী ও ডিআরবির সাংবাদিক লিওন (২৬) মোটরসাইকেলে বড়ভিটা থেকে বেড়গাড়ীর দিকে যাওয়ার পথে বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম (৪৮) কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের পথরোধ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরে সাহেব আলীকে টেনে-হিঁচড়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আলমগীর তাকে ধরে রাখেন এবং প্রধান শিক্ষক তাকে কিল-ঘুষি ও মারধর করেন। এ সময় সাংবাদিক লিওন ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

একপর্যায়ে সাংবাদিক সাহেব আলীকে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতেই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আহত সাংবাদিক সাহেব আলী বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরেই তাকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মাহমুদা খাতুন জানান, নির্ধারিত সময়ের পরে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিককে মারধরের ঘটনাটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, “প্রধান শিক্ষক কর্তৃক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here