চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, রাষ্ট্র ও সমাজের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মিথ্যা তথ্য, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার রোধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় ও উদ্বুদ্ধকরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহীম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. জাহিদুল করিম কচিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, এনজিও প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
জেলা প্রশাসক বলেন, ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য শেয়ার বা মন্তব্য করার আগে অবশ্যই তার সত্যতা যাচাই করতে হবে। গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার পরিবর্তে তাদের মোবাইলের সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার শেখাতে অভিভাবকদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত ফেসবুক আইডি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জেলা প্রশাসন সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
সভায় বক্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুবিধার পাশাপাশি গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার বা শেয়ার না করার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সামাজিক সম্প্রীতি, আইন-শৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ রক্ষায় সত্য ও নির্ভুল তথ্য প্রচারে সবাইকে একযোগে কাজ করার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।

