মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি :
মানিকগঞ্জ মানিকগঞ্জের ঘিওরে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের লোভে রফিক মিয়া (২৭) নামে এক চালককে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে জড়িত নিহতের বন্ধুসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে হত্যার কয়েক দিন পার হলেও নিহতের বিচ্ছিন্ন মাথাটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী গ্রামের রফিক মিয়ার অটোরিকশাটি আত্মসাৎ করার পরিকল্পনা করে তার বন্ধু নির্মাণশ্রমিক রিপন মিয়া (৩০)।
পরিকল্পনামতো গত ২৪ মার্চ রাতে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে রফিককে সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের পাছবারইল এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর তীরে নিয়ে যাওয়া হয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল রিপনের সহযোগী আরমান হোসেন (২০) ও সজিব (২৫)।
নদীর পাড়ে পৌঁছানোর পর আরমান হাতুড়ি দিয়ে রফিকের মাথায় সজোরে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর রিপন ধারালো অস্ত্র দিয়ে রফিককে গলা কেটে হত্যা করে।
এ সময় আরমান ও সজিব নিহতের হাত-পা চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে। হত্যাকাণ্ড শেষে মরদেহ ও বিচ্ছিন্ন মাথাটি নদীতে ফেলে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
পরদিন ভোরে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি নিয়ে ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকায় আত্মগোপন করে প্রধান অভিযুক্ত রিপন।
তদন্ত ও গ্রেফতার অভিযান: গত ২৫ মার্চ বিকেলে নদী থেকে একটি মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধারের পর ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয় তদন্তকারী দল।
গত ২৬ মার্চ ধামরাইয়ের কালামপুর থেকে মূল হোতা রিপনকে আটক করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে ছিনতাই করা অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়। পরে রিপনের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার দুই সহযোগী আরমান ও সজিবকে গ্রেফতার করে।
পিবিআই মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সহায়তায় কালীগঙ্গা নদীতে নিহতের বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধারের জোর প্রচেষ্টা চলছে। শনিবার দুপুরে আসামিদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

