গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, জবরদখল এবং মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে হতদরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ এসব বিরোধের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভূমি বিরোধের পেছনে বিভিন্ন সামাজিক, প্রশাসনিক ও পেশাগত কারণ রয়েছে, যেগুলো সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
স্থানীয়ভাবে জমি মাপজোখের কাজে নিয়োজিত কিছু অনভিজ্ঞ বা অপ্রাতিষ্ঠানিক সার্ভেয়ারকে অনেক সময় এ ধরনের বিরোধের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা যায়। তাদের মধ্যে অনেকের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, স্বীকৃত সনদ কিংবা পেশাগত জবাবদিহিতা না থাকায় ভুল মাপজোখ, অস্পষ্ট প্রতিবেদন বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। যদিও অনেক সার্ভেয়ার সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তবুও কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েন।
এছাড়া গ্রামীণ সালিশ ব্যবস্থা, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এবং রাজনৈতিক প্রভাবও অনেক ক্ষেত্রে ভূমি বিরোধকে জটিল করে তোলে। ন্যায়বিচার ও প্রকৃত তথ্যের পরিবর্তে যখন প্রভাব বা অর্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তখন প্রকৃত মালিক তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। এর ফলে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয় এবং মানুষ আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়।
ভূমি সংক্রান্ত মামলা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় এতে সময়, অর্থ এবং শ্রমের ব্যাপক অপচয় ঘটে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমি জরিপ ও মাপজোখ কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে বিরোধ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। পাশাপাশি অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় নেতৃত্ব এবং পেশাজীবীদের উচিত সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করা। ন্যায়ভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে ভূমি বিরোধ, জবরদখল ও অপ্রয়োজনীয় মামলা-মোকদ্দমা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এতে সাধারণ মানুষ সহজেই তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে এবং সমাজে স্থিতিশীলতা ও সম্প্রীতি বজায় থাকবে।

