ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের সুহিলপুর মৌলাবাড়ি এলাকায় জন্মদাত্রী মাকে মারধর ও দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগে ছেলে সুমন মোল্লার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৩টায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন সুহিলপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ শাহিন মুন্সি, স্থানীয় সালিশকারক আবুল হারিছ ভূঁইয়া, হাজী নজরুল ইসলাম ডাক্তার, হাশেম চৌধুরী ও মুন্সী মোল্লাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, পারিবারিক ও জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। তাদের দাবি, সম্প্রতি সুমন মোল্লা শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে নিজের মায়ের ওপর হামলা চালান। একই ঘটনায় তার ভাই মাসুদ মোল্লাও দা দিয়ে কুপিয়ে আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মাথায় ১০টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাহানারা বেগম বলেন, বিদেশে থাকা অবস্থায় স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়া ছেলের চিকিৎসার জন্য তিনি নিজের তিন শতক জমি বিক্রি করেছিলেন। অথচ এখন সেই ছেলেই তার অপর ছেলে মাসুদ মোল্লার ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ছয় বছর ধরে সুমন তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। এছাড়া তার স্ত্রীকে দিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তবে অভিযুক্ত সুমন মোল্লার বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

