কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি নৌকায় তোলা লাশবাহী ভ্যানের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা। ছবিটি ঘিরে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের অবহেলা, বিচ্ছিন্নতা ও অবকাঠামোগত সংকটের বিষয়টি সামনে এসেছে।
১৮ মে ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করেন মোঃ সামিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি লিখেন, ‘আমরা কুড়িগ্রামবাসী কতটা অসহায়, অবহেলিত ও বঞ্চিত, সেটা এই লাশবাহী গাড়ি দেখলেই বোঝা যায়। কবে হবে এই সমস্যার সমাধান?’ তাঁর এই পোস্ট ইতিমধ্যে প্রায় এক লাখ মানুষ দেখেছেন। এতে অসংখ্য মানুষ আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
মোঃ সামিউল ইসলাম বলেন, গত সোমবার কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলায় তাঁর বাড়ি ফেরার পথে চিলমারীর রমনা ঘাটে নৌকার ওপর লাশবাহী ভ্যানটি দেখতে পান। পরে সেটি মুঠোফোনে ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। ছবিটি কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের মানুষের বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছবির লাশবাহী ভ্যানটি রৌমারী থানার। কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা শহরে নিতে এই গাড়ি ব্যবহার করা হয়। তবে রৌমারী উপজেলা ও চর রাজিবপুর উপজেলার সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলা শহরের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় ভ্যানটি কখনো কাঁচা ও ভাঙা রাস্তা ঠেলে, আবার কখনো নৌকায় তুলে নদী পার করতে হয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
লাশবাহী গাড়িটির চালক মোঃ আশিয়াল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চল পেরিয়ে লাশ নিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা শহরে পৌঁছানো খুবই কষ্টসাধ্য। বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। ময়নাতদন্ত শেষে একইভাবে লাশ নিয়ে আবার রৌমারী উপজেলায় ফিরতে হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আগে লাশ বহনের জন্য একটি কাঠের ভ্যান ব্যবহার করা হতো। সেটিতে লাশ পরিবহন ছিল ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টকর। পরে রৌমারী থানা বিশেষভাবে একটি লাশবাহী ভ্যান তৈরি করে দেয়। তবে যানবাহনের পরিবর্তন হলেও এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রৌমারী উপজেলা ও চর রাজিবপুর উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই অবকাঠামোগতভাবে পিছিয়ে থাকা জনপদ। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে প্রতিবছর বহু মানুষ ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারাচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অসুস্থ মানুষকে নৌকায় করে হাসপাতালে নিতে হয়, আবার মৃত্যুর পর লাশও নদী পেরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। ভাঙা রাস্তা, কাদামাটি ও দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এখানকার মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কাওছার আলী বলেন, অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় লাশ বহনের জন্য গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। আগে কাঠের ভ্যানে লাশ নেওয়া হতো। খোলা অবস্থায় লাশ বহন করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এ বছর বিশেষভাবে ভ্যানটি তৈরি করা হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

