বৃষ্টির অজুহাতে ছুটি নিয়ে আদালতে হাজিরার অভিযোগ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে

বৃষ্টির অজুহাতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি,পরে আদালতে উপস্থিতির অভিযোগ—কুতুবেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে

বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি :

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কুতুবেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তার লিপির বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নৈমিত্তিক ছুটি গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকা ও শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে সহকারী শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তার লিপি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমানকে মোবাইল ফোনে জানান যে, বৃষ্টির কারণে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারবেন না এবং নৈমিত্তিক ছুটি প্রয়োজন। তবে তিনি ওই সময় কোনো লিখিত ছুটির আবেদন জমা দেননি বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

পরবর্তীতে একই দিনে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে জামালপুর জেলা আদালত প্রাঙ্গণে দেখা যায়। সেখানে তিনি একটি মামলার হাজিরা দিতে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানা যায়। এতে প্রশ্ন উঠেছে—বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়ার কারণ হিসেবে বৃষ্টির অজুহাত দেখানো হলেও বাস্তবে তিনি ব্যক্তিগত ও আদালত সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত ছিলেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন— “তিনি আমাকে ফোনে জানান বৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়ে আসতে পারবেন না। তবে কোনো লিখিত দরখাস্ত দেননি। পরে তিনি আদালতে গিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী হওয়া উচিত ছিল।”

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল হক বাবুর প্রথম স্ত্রী হলেন অভিযুক্ত ফাতেমা আক্তার লিপি। এছাড়াও দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন কর্তৃক দায়ের করা একটি মামলায় হাজিরা দিতেই তিনি ওইদিন জামালপুর আদালতে যান বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন—“নৈমিত্তিক ছুটি নিতে হলে সাধারণত প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত আবেদন করতে হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে মৌখিকভাবে ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকলেও পরে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। বৃষ্টির কথা বলে ছুটি নিয়ে আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়া অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে দেখা হবে।”

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একজন শিক্ষক সমাজের আদর্শ ও নৈতিকতার প্রতীক। তাই তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ছুটি নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here