স্টাফ রিপোর্টার :
অন্তবর্তী সরকার সাবেক সিনিয়র সচিব ড. এম আসলাম আলমকে তিন বছরের জন্য বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ)’ চেয়ারম্যান পদে নিয়েগ দিলে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এই পদে তিনি যোগদান করেন।
সে হিসাবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার গঠনের পর পরই দেড় বছর দায়ীত্ব পালন শেষে মেয়াদ ফূর্তির আগেই তিনি পদত্যাগ করে সরে গেছেন।
দীর্ঘ একমাসের অধিক সময় পার হলেও এখনো দেশের আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ন একটি নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। এতে বীমা শিল্পের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি চেয়ারম্যান না থাকায় আইডিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত মার্চ মাসের বেতন-ভাতাও তুলতে পারেননি বলেও জানা গেছে।
জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার সময় এম আসলাম আলম আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব পদে কর্মরত ছিলেন। ফ্যাসিস্টের সাবেক অর্থমন্ত্রী আব্দুল মাল আল মুহিতের আস্থাভাজন হিসেবে খ্যাত এম আসলাম আলমকে অন্তবর্তীকালীন সরকার বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়েগ দেয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
মেয়াদ ফুর্তির আগেই প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে গত ১৭ ফেব্রুয়ারী ২ মার্চ তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে ব্যক্তিগত অনিবার্য কারন দেখিয়ে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে পদত্যাগ করেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগড়িষ্ঠ বিজয় লাভ করার পরপরই ড. এম আসলাম আলম এক সভায় ব্যক্তিগত পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
আইডিআরএ গঠিত হওয়ার পর ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষে (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান পদে ১০ জন ও সদস্য পদে ২৫ জন দায়ীত্ব পালন করেন। দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক সম্ভাবনাময় বীমা শিল্পে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে আইডিআরএ কতৃপক্ষ এ সময়ের মধ্যে কার্যকর কোন ভূমিকা পালন করতে পারেন নি।
বরং গত ১৫ বছরে বীমা খাতে কয়েকটি কেলেংকারী সংঘটিত হয়েছে এবং এ খাতে সংকট আরো বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন বীমা খাত বিশেষজ্ঞদের অনেকে। এ সময়ের মধ্যে নন লাইফ খাতে অবৈধ কমিশন প্রথা বন্ধে কয়েকবার প্রজ্ঞাপন জারি করে আইডিআরএ।
কমিশন প্রথা বন্ধ করতে কার্যকর কোন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে নিয়ন্ত্রনকারী এ প্রতিষ্ঠানটি।বরং বীমা বাজারে কমিশন বন্ধ একটি তামাশা হিসেবে দেখেছে নন লাইফ বীমা গ্রাহকরা।
আইডিআরএ এর ব্যর্থতা কারনে বীমা খাত আস্থা ও অস্তিস্ত্ব সংকটের নিমজ্জিত হয়েছে বলেও মনে করছেন অনেক বীমা বিশেষজ্ঞ। নাম প্রকােশ না করার শর্তে কয়েকজন বীমা বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, বীমা খাতে এমন একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া আবশ্যক যিনি বীমা কোম্পানীগুলোর প্রভাবশালী পরিচালকদের মোকাবেলা করে বীমা আইন,বিধি,নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে স্বক্ষম।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

