বরিলাল ব্যুরো :
বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস) ঝালকাঠি জেলা শাখার আসন্ন ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনকে ঘিরে ভোটার তালিকা ও আর্থিক হিসাবের অসঙ্গতির অভিযোগে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন আহ্বায়ক কমিটির সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের দুই সদস্য।
কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, জেলা শাখার ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপিত সাধারণ সম্পাদকের বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২৫ অনুযায়ী সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৩৮ জন। তবে একই সভায় উপস্থাপিত আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী মাত্র একজন নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং ২৯ জন সদস্যের সদস্যপদ নবায়নের তথ্য দেখানো হয়েছে। এ হিসেবে মোট ৩০ জন সদস্যের কাছ থেকে সদস্য ফি বাবদ ১ লাখ ৫ হাজার টাকা আদায়ের হিসাব উপস্থাপন করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, বাস্তবে নতুন সদস্য হয়েছেন দুইজন। তাদের কাছ থেকে যথাক্রমে ২০ হাজার ও ১৫ হাজার টাকা গ্রহণ করা হলেও সেই অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব আয়-ব্যয়ের বিবরণীতে প্রতিফলিত হয়নি। এছাড়া লাইব্রেরির মালিকানা পরিবর্তন, সদস্যপদ হস্তান্তর এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংগঠনের তহবিলে অর্থ জমা হলেও তার বিস্তারিত তথ্য বার্ষিক হিসাব বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়নি।
লিখিত আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সদস্যপদ নবায়নকারী সদস্যের সংখ্যা ৩০ জন হলেও প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ৩৮ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে ভোটার তালিকার বৈধতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এসব অসঙ্গতি নিরসন ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাপুস ঝালকাঠি জেলা শাখার সভাপতি ও মেসার্স আদর্শ লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী মো. আবুল কালাম আজাদ এবং সাধারণ সম্পাদক ও নুরিয়া লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী মো. হাসিবুল ইসলাম নিপুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে আবেদনকারীরা কেন্দ্রীয় নির্বাচন আহ্বায়ক কমিটির কাছে সদস্যপদ ও আর্থিক হিসাবের নিরপেক্ষ তদন্ত, হালনাগাদ ও বৈধ ভোটার তালিকা প্রকাশ, সদস্যপদ নবায়ন না করা ব্যক্তিদের ভোটাধিকার বাতিল এবং কেন্দ্রীয় তত্ত্বাবধানে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি ও সদস্যপদ হস্তান্তর সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন ইসলামিয়া লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল ইসলাম এবং ছাত্রবন্ধু লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী আবু জাফর বিশ্বাস।
তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন আহ্বায়ক কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগকে ঘিরে বাপুসের সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

