বাংলাদেশে মোট কতজন সাংবাদিক আছেন?

পাবনা প্রতিনিধি :

 

সংবাদপত্রকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। আর এই স্তম্ভকে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে রাখেন যারা তারা হলেন সংবাদকর্মী, সাংবাদিক সমাজ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই গুরুত্বপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা কি আজও রাষ্ট্র জানে না?

মাননীয় মন্ত্রী, আপনি যদি জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এই প্রশ্নের সম্মুখীন হন “বাংলাদেশে মোট কতজন সাংবাদিক আছেন? নিঃসন্দেহে সঠিক পরিসংখ্যান তুলে ধরা কঠিন হবে।

স্বাধীনতার অর্ধশতক পেরিয়ে গেলেও এখনো সাংবাদিকদের কোনো পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ডাটাবেজ তৈরি হয়নি। এটি শুধু একটি প্রশাসনিক ঘাটতি নয়, বরং পেশাটির মর্যাদা ও শৃঙ্খলার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে আমরা দেখি, মৎস্য খাত, প্রাণিসম্পদ বা কৃষি খাত প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরকারের কাছে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার রয়েছে। কিন্তু যে পেশা রাষ্ট্র ও সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে, সেই সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেই এই মৌলিক কাঠামোর অভাব অত্যন্ত হতাশা জনক।

দুঃখ জনক হলেও সত্য, এই শূন্যতার সুযোগে অপেশাদার ও লেজুরভিত্তিক সাংবাদিকতার বিস্তার ঘটছে। রাজনৈতিক স্বার্থে সাংবাদিকদের ব্যবহার এবং কিছু ব্যক্তির ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে সাংবাদিকতার অপপ্রয়োগ এই মহান পেশার সুনামকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অলিগলিতে আজ ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ে এমন অনেককে দেখা যায়, যাদের সঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিকতার ন্যূনতম সম্পর্কও নেই।

একসময় এই পেশা ছিল সম্মান, দায়বদ্ধতা ও জ্ঞানের প্রতীক। মানুষকে শুদ্ধ ভাষা ও বানান শেখাতে সংবাদপত্র পড়ার পরামর্শ দেওয়া হতো। অথচ আজ উল্টো চিত্রও চোখে পড়ে যা আমাদের ভাবিয়ে তোলে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

সম্প্রতি আপনার বক্তব্যে সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগের কথা জেনে আশাবাদী হয়েছি। তবে সেই আশার বাণী যেন কেবল ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ না থাকে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আমাদের সুস্পষ্ট দাবি একটি জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিক ডাটাবেজ তৈরি করা হোক। সাংবাদিকতার জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা (কমপক্ষে ডিগ্রি) নির্ধারণ করা হোক। প্রেস ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে প্রত্যেক পেশাদার সাংবাদিককে একটি স্বীকৃত আইডি নম্বর প্রদান করা হোক, যা ছাড়া কোনো মিডিয়া হাউসে কাজ করা যাবে না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই নীতিমালা প্রণয়নে শুধু রাজধানী কেন্দ্রিক মতামত নয়, বরং গ্রাম ও মফস্বলে কর্মরত সংবাদকর্মীদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে সমান গুরুত্ব দেওয়া।

কারণ বাস্তবতা হলো, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ সংবাদ উঠে আসে তৃণমূল থেকে। আর একজন মফস্বল সাংবাদিকই সবচেয়ে ভালো বোঝেন এই পেশার ঝুঁকি, সংগ্রাম ও দায়বদ্ধতা।

মাননীয় মন্ত্রী, স্বাধীনতার এত বছর পর এই খাতে একটি সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে তোলার এখনই সময়। আপনার হাত ধরেই তৈরি হতে পারে একটি নতুন ইতিহাস যেখানে সাংবাদিকতা হবে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ, মর্যাদাপূর্ণ ও কলঙ্কমুক্ত।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here