বরিশাল প্রতিনিধি :
দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) এখনও চালু হয়নি স্ট্রোক ও স্নায়ুজনিত রোগীদের জন্য বিশেষায়িত নিউরোমেডিসিন ওয়ার্ড।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
হাসপাতালটির অবকাঠামো, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রস্তুত থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতা এবং বিভাগীয় মতবিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে ওয়ার্ড চালুর উদ্যোগ। ফলে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্ট্রোক ও স্নায়ুজনিত রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে একাধিকবার নিউরোমেডিসিন ওয়ার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, নিউরোমেডিসিন বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. অমিতাভ সরকারের দ্বিমতের কারণে আগের দুই পরিচালক ব্যর্থ হন।
হাসপাতালে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি বছরের পর বছর অগ্রগতি ছাড়া ঝুলে আছে। বর্তমানে স্ট্রোক রোগীদের ভর্তি করা হচ্ছে সাধারণ মেডিসিন ওয়ার্ডে, যেখানে জ্বর, কাশি বা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গেই থাকতে হচ্ছে তাঁদের। এতে যথাসময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটছে।
শেবাচিম হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. একে.এম. নজমুল আহসান বলেন, “ইতিপূর্বে যেই বাধাই থাকুক না কেন, বর্তমান পরিচালকের উদ্যোগে আমরা খুব শিগগিরই নিউরোমেডিসিন ওয়ার্ড চালু করছি।”
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, নিউরোমেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. অমিতাভ সরকার বরিশাল নগরীর বাজার রোডে কেএমসি নামে একটি বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালনা করেন এবং সদর রোডের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও নিয়মিত চেম্বার করেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দায়িত্ব পালনের চেয়ে তিনি ব্যক্তিগত প্র্যাকটিসে বেশি সময় দেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. অমিতাভ সরকার বলেন, “আমি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ নই। প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হলে কালই ওয়ার্ড চালু করা সম্ভব। আমার কারণে ওয়ার্ড বন্ধ আছে—এটি মিথ্যা তথ্য। আমি প্রাইভেট প্র্যাকটিস করি, তবে কলেজে ক্লাসও নিয়মিত নেই।”
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. ফায়জুল বাশার বলেন, “ডা. অমিতাভের বিরুদ্ধে ক্লাস না নেওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ.কে.এম. মশিউল মুনীর বলেন, “কারও বাধা থাক বা না থাক, আমরা তা বিবেচনায় নিচ্ছি না। খুব শিগগিরই নিউরোমেডিসিনসহ আটটি বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালু করা হবে। বর্তমানে তিনজন নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কর্মরত আছেন, তাই এই বিভাগ চালু করতে আর কোনো বাধা নেই।”
সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউরোমেডিসিন ওয়ার্ড চালু না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন স্ট্রোক ও স্নায়ুজনিত রোগীরা।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

