বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, সোমবার থেকে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের ঘোষণা

বরিশাল প্রতিনিধি :

 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) পদোন্নতি জটিলতার সমাধান না হওয়ায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। একই সঙ্গে আগামী সোমবার থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক ও প্রশাসনিক শাটডাউন কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
জানা যায়, পদোন্নতির দাবিতে গত ২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকরা কর্মবিরতি ও প্রশাসনিক শাটডাউন পালন করে আসছিলেন। পরে ৫ মে বিভাগীয় কমিশনারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ৯ মে সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওই আশ্বাসের ভিত্তিতে শিক্ষকরা ১০ মে পর্যন্ত শাটডাউন স্থগিত রেখে ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম চালু রাখেন। তবে তারা আগেই জানিয়েছিলেন, সিন্ডিকেট সভায় সমাধান না হলে কঠোর আন্দোলনে ফিরবেন।

শনিবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৪তম সিন্ডিকেট সভায় পদোন্নতি নীতিমালা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হয়, ইউজিসির নতুন নীতিমালা অনুযায়ী দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন পদোন্নতি নীতি প্রণয়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সংবিধি প্রণয়নে দুই মাস সময় নেওয়া হয়।
তবে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। তাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের অধিকাংশ সদস্যের মতামত উপেক্ষা করে উপাচার্য এককভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এ ঘটনার পর সিন্ডিকেট সদস্য তানভীর কায়সার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল রোববার পদত্যাগ করেন। যদিও তারা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
পরে বিকেলে শিক্ষক সমাজের ব্যানারে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক শাটডাউন কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে অভিন্ন পদোন্নতি নীতিমালা প্রণয়নের। এজন্য দুই মাস সময় নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, শিক্ষকদের অভিযোগ সঠিক নয় এবং তারা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে আন্দোলন করছেন।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে, ফলে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here