বরিশালে প্রভাবশালীদের গৃহকর কমানোর অভিযোগ, টানা তিন বছর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ বিসিসি

বরিশাল প্রতিনিধি :

 

বরিশাল নগরীতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বহুতল ভবন ও নতুন হোল্ডিংয়ের সংখ্যা। কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়ছে না গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) আদায়। বরং বিভিন্ন ভবন ও প্রতিষ্ঠানের কর অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) কর ধার্য শাখার বিরুদ্ধে। এতে টানা তিন অর্থবছরেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি সিটি করপোরেশন।

বিসিসির কর ধার্য শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নগরীতে হোল্ডিং সংখ্যা ছিল ৫৬ হাজার ২০৭টি। ওই বছরে গৃহকরের চাহিদা ছিল ৫৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। কিন্তু আদায় হয় মাত্র ৩৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে হোল্ডিং সংখ্যা ছিল ৫৬ হাজার ৭৫টি। ওই বছরে গৃহকরের চাহিদা দাঁড়ায় ৫৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আদায় হয় ৪১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হোল্ডিং সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৭ হাজার ৬০৯টি। এ বছরে গৃহকরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। তবে মার্চ পর্যন্ত আদায় হয়েছে মাত্র ৩২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চলতি অর্থবছরেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নামমাত্র কর ধার্য করে রাজস্ব ক্ষতির সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে কর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে।

নথিপত্রে দেখা যায়, নগরীর নবগ্রাম রোডের করিম কুটির মসজিদ লেনের ১২৫ নম্বর হোল্ডিংয়ে ১০ তলা ভবনের নির্মাণ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। অথচ এখনো ভবনটির জন্য প্ল্যান পাসের সময় নির্ধারিত মাত্র ৭ হাজার ৫৬০ টাকা কর আদায় করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, করপোরেশনের কর্মকর্তারাও নিজেদের ক্ষেত্রে করফাঁকির সুবিধা নিচ্ছেন। বিসিসির প্রধান কর নির্ধারক নুরুল ইসলামের মালিকানাধীন চারতলা ভবনের গৃহকর নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৪০ টাকা।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এদিকে নগরের দক্ষিণ জাওয়ায় প্রাণ-আরএফএল ডোর ভবনের (হোল্ডিং নং-২২০০) ওপর ২০১৮ সালে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা কর ধার্য করা হলেও পরে তা কমিয়ে ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়।
একইভাবে প্রাণ হীরহীর একটি ভবনের (হোল্ডিং নং-২২০১) কর ২০১৮ সালে ছিল ৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার টাকায়।

অন্যদিকে, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের (হোল্ডিং নং-৭৯) ওপর ২০২৪ সালের জুনে ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা কর ধার্য করা হলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তা কমিয়ে মাত্র ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিসিসির প্রধান কর কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম দাবি করেন, সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ একতরফাভাবে উচ্চ কর নির্ধারণ করেছিলেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কর পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে স্থানীয় সরকার আইনের বিধান অনুযায়ী, কর নির্ধারণে আপত্তি থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করার নিয়ম রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সেই বিধান অনুসরণ না করেই কর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, কীভাবে কর কমানো হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে। কোথাও অনিয়ম থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, কর শাখার কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। অস্বাভাবিকভাবে কর কমিয়ে রাজস্ব ক্ষতির ঘটনা প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here