ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় দখলে নেওয়া জমি ও দোকান উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

ঝালকাঠির নলছিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সাবেক সেনা সদস্য আবুল কালাম খানের মেয়ে আইরিন সুলতানা / ছবি - এই বাংলা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :

 

ঝালকাঠির নলছিটিতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক সেনা সদস্যর জমি ও ছয়টি দোকান জোর করে দখলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য পুলিশ বিভাগসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন সেনা সদস্যর পরিবার।

আজ শুক্রবার সকাল ১১টায় নলছিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ সহযোগিতা কমানা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সাবেক সেনা সদস্য মৃত আবুল কালাম আজাদের মেয়ে আইরিন সুলতানা। সংবাদ সম্মেলনে তার মা ও ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, তার বাবা আবুল কালাম আজাদ সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। তিনি অবসরে গেলে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। অবসরের টাকা দিয়ে তিনি নলছিটি শহরের প্রাণকেন্দ্র সাথির মোড়ে ১৯৯০ সালে পৈত্রিক ও লিজ নেওয়া জমিতে ছয়টি আধাপাকা স্টল নির্মাণ করেন।

এই স্টল ভাড়া দিয়েই চলতো তার সংসার ও ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার খরচ। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন নিয়ে তার জমি ও স্টল দখলে করে নেয় আলমগীর হোসেন খান নামে এক ব্যক্তি।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এ ঘটনায় তিনি নলছিটি থানায় অভিযোগ ও একাধিকবার সাধারণ ডায়েরি করেও কোন সুফল পায়নি। বরংচ তখন উল্টো তাকে মারধর করা হয়। তঁার পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতে একাধিক মামলাও করেন আলমগীর হোসেন খান। সবগুলো মামলায় আদালত থেকে রায় পান আবুল কালাম আজাদ।

এর পরেও তাকে দোকন ও জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। পরিবারের ভবিষ্যত জীবিকার চিন্তায় দুঃখ, কষ্ট, ক্ষোভ নিয়ে ২০১০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে একাধিকবার এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশের মাধ্যমে সালিস মিমাংসার কথা বললেও আলমগীর হোসেন খান কোন কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হন না।

তিনি জোর করে এখনো দোকান দখল করে আছেন। দোকানের আশেপাশে গেলেও গুম ও খুনের হুমকি দেন আবুল কালামের ভাড়াটে লোকজন। এ অবস্থায় জমি ও দোকান উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন আইরিন সুলনাতানা।

এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা ধরেননি।

‎এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here