
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম জেলার অনন্তপুর সীমান্তে ১৪ বছর আগে কাঁটাতারে ঝুলে নিহত কিশোরী ফেলানীর স্মৃতির মধ্যে বড় হয়ে, তার ছোট ভাই মোঃ আরফান হোসেন দেশসেবার শপথ নিয়েছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ (বিজিটিসিএন্ডসি)-এর ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে মোঃ আরফান হোসেন নতুন সৈনিক হিসেবে শপথ নেন। ঐতিহ্যবাহী ‘বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে নবীন সৈনিকদের কুচকাওয়াজ প্রদর্শনের পাশাপাশি শপথগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হন কিশোরী ফেলানী খাতুন। তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে থাকা দৃশ্য বিশ্ববাসীর হৃদয় শিহরিত করেছিল। সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতির সঙ্গে বড় হয়েছেন আরফান হোসেন, তখন তার বয়স মাত্র ৬–৭ বছর।
কুচকাওয়াজ শেষে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আরফান হোসেন বলেন, “আমার বোনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল এবং কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই দৃশ্য আজও আমাদের পরিবারকে তাড়া দেয়। সেই স্মৃতি ও পরিবারের ইচ্ছে নিয়েই আমি দেশের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছি। আজ আমি সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পেয়েছি। প্রয়োজনে প্রাণ দিতে চাই, যেন আর কোনো বাবা-মায়ের সন্তান ‘ফেলানী’ হয়ে কাঁটাতারে ঝুলে না থাকে।”
আরফান হোসেন কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নাখারগঞ্জ হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর বিজিবির নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চার মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে তিনি দেশের সীমান্ত রক্ষায় একজন সৈনিক হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
এই শপথের মাধ্যমে আরফান হোসেন কেবল নিজের পরিবারের অমীমাংসিত যন্ত্রণা ও স্মৃতিকে সম্মান জানাননি, বরং দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় জীবনের অঙ্গীকারও প্রকাশ করেছেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক
