নিজস্ব প্রতিবেদক :
পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর বার্ষিক মূল্যায়নে মাদকদ্রব্য উদ্ধার কার্যক্রমে ‘ক’ গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ। এ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ মঙ্গলবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারক ও সনদ গ্রহণ করেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
অনুষ্ঠানে মাননীয় ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির জেলা পুলিশের এই কৃতিত্বের জন্য পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা করতালির মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশকে অভিনন্দন জানান।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশের মাদকবিরোধী কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা নিয়ে গঠিত ‘ক’ গ্রুপে মাদক উদ্ধার, মামলা রুজু, মাদক কারবারি গ্রেফতার, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং মাদক সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন উদ্ঘাটনে সর্বোচ্চ স্কোর অর্জন করে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুর এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক বিশেষ অভিযান, ২৪ ঘণ্টা চেকপোস্ট, ড্রোন নজরদারি এবং শক্তিশালী সোর্স নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ফলে গত এক বছরে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও গাঁজা উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার কারণে তরুণদের মধ্যে মাদকের প্রবণতাও কমেছে বলে জানানো হয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
পুরস্কার গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, এই অর্জন জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল। তিনি জানান, সরকারের ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে জেলা পুলিশ ভবিষ্যতেও কঠোর অবস্থানে থাকবে।
দেশসেরা হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন থানা ও পুলিশ লাইন্সে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পুলিশ সদস্যরা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান এবং এ স্বীকৃতিকে ভবিষ্যতের কাজের অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।
এদিকে ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স, জেলা আইনজীবী সমিতি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজ জেলা পুলিশকে অভিনন্দন জানিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, মাদক নির্মূলের পাশাপাশি কিশোর গ্যাং, চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধেও ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

