পিরোজপুর প্রতিনিধি :
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষ্যে পিরোজপুরে যথানিয়মে পশু জবাই, কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ এবং সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে বিতরণকৃত লবণ সঠিক উপায়ে প্রয়োগ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২৩ মে (শনিবার) পিরোজপুর সদর উপজেলার শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে এই কর্মশালার আয়োজন করে পিরোজপুর সদর উপজেলা প্রশাসন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক জনাব মাহমুদুর রহমান মামুন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদ, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এবং পিরোজপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
এবারের কর্মশালার মূল আকর্ষণ ছিল স্থানীয় আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের সশরীরে উপস্থিতিতে প্রযুক্তির ব্যবহার। মিলনায়তনের বড় পর্দায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পশু জবাইয়ের ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক নিয়মাবলি দেখানো হয়। একই সাথে চামড়ায় যেন কোনো দাগ বা কাটা-ছেঁড়া না পড়ে, সেভাবে চামড়া ছাড়ানো এবং কোরবানির কত সময়ের মধ্যে, কী পরিমাণে লবণ প্রয়োগ করতে হবে—তা প্র্যাকটিক্যাল বা বাস্তবমুখী নির্দেশনার মাধ্যমে আলেম ও ইমামদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
বক্তারা বলেন, সমাজে মসজিদের ইমাম ও আলেমদের কথা সাধারণ মানুষ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শোনেন। ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে তাঁদের এই প্র্যাকটিক্যাল প্রশিক্ষণ দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো, তাঁরা যেন জুম্মার খুতবা ও বিভিন্ন ধর্মীয় সভায় সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে এই সঠিক নিয়মগুলো ছড়িয়ে দিতে পারেন। কোরবানির চামড়া জাতীয় সম্পদ। সঠিক সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর যে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়, তা রোধ করতে পারলে জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।
কর্মশালায় জানানো হয়, সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে যে লবণ বিতরণ করা হচ্ছে, তা যেন প্রকৃত প্রান্তিক খামারি, কসাই ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের হাতে পৌঁছায় এবং তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়—সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর তদারকি করবে। এছাড়া ঈদুল আজহার দিনগুলোতে মাঠ পর্যায়ে বিশেষ টিম কাজ করবে, যাতে চামড়া নিয়ে কোনো সিন্ডিকেট বা অপচয় না ঘটে।
কর্মশালায় স্থানীয় ইমাম, আলেম-ওলামা, কসাই এবং মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

