কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা সদরের গার্লস স্কুল মোড়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সরকারি জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক দুই নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্তরা হলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) হৃদয় হাসান ও সাবেক সভাপতি খায়রুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস ধরে সড়কের পাশের জায়গা দখল করে আটটি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ঘর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুদাম হিসেবে ভাড়া দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। সড়কের প্রতিরক্ষা দেয়াল ঘেঁষে এবং স্থানীয় একটি মসজিদের পুকুরপাড়ে স্থাপনা নির্মাণ করায় সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি আরসিসি প্রতিরক্ষা দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জাহিদুল ইসলাম লিটন নামের এক ব্যক্তি গত ৩০ এপ্রিল জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওই স্থানে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠলে সড়কের দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। পরে সওজ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে সেসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে।
কিন্তু ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর পুনরায় টিনের ঘর তুলে জায়গাটি দখল করা হয়। একসময় পথচারীদের বিশ্রামের জন্য থাকা বেঞ্চ ও পানি পানের টিউবওয়েল সরিয়ে সেখানে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দখল করা একটি ঘরে হৃদয় হাসান তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয় স্থাপন করেছেন। অন্য ঘরগুলো অগ্রিম এক লাখ টাকা জামানত ও মাসিক তিন হাজার টাকা ভাড়ায় বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। যদিও এসব অর্থ মসজিদের নামে তোলা হচ্ছে বলে প্রচার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু বলেন, “ওই জায়গায় আগে ঘর ছিল, এখন আবার কিছু ঘর উঠেছে। এটি অবৈধ দখল। যদি কেউ দখল করে থাকে, আমি অবশ্যই দখলবাজদের বিরুদ্ধে। যে বা যারাই করুক, উচ্ছেদের পক্ষে আমি। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি।”
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
নিকলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হেলিম তালুকদার বলেন, সরকারি জায়গা দখলের বিষয়টি তাঁর কানেও এসেছে। তবে কে বা কারা জড়িত, তা তিনি বিস্তারিত জানেন না। তিনি বলেন, “এখানে ছাত্রদলের সাবেক দুই নেতা খায়রুল ও হৃদয়ের নাম এসেছে। তবে বর্তমানে তারা কোনো পদ-পদবিতে নেই এবং দল থেকে বহিষ্কৃত। আমার দলের কেউ জড়িত থাকলেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক হৃদয় হাসান দাবি করেন, দোকানগুলো সওজের জায়গায় নয়, মসজিদের জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “দোকান নির্মাণের সঙ্গে আমি সরাসরি জড়িত নই। মসজিদ কমিটির লোকজনই এগুলো নির্মাণ করেছেন। আমি এলাকার ছেলে হিসেবে শুধু সহযোগিতা করেছি। তবে যদি এটি সড়কের জায়গা হয়, তাহলে অবশ্যই ছেড়ে দেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, মসজিদ কমিটির সভাপতি ইউএনও প্রথমে দোকান নির্মাণে বাধা দিলেও পরে কাগজপত্র যাচাই করে অনুমতি দিয়েছেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খায়রুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ইউএনও এবং পুকুরপাড় জামে মসজিদের সভাপতি রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, “মাপজোখ করে দেখা গেছে দোকানগুলো পুকুরপাড় ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে। এজন্য দোকানঘর নির্মাণের একটি রেজল্যুশন দেওয়া হয়েছে। তবে পাশে সওজের রাস্তা থাকায় বিষয়টি সওজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পুনরায় যাচাই করা হবে।”
সওজের কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সল জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সার্ভেয়ার দিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও মাপজোখ করা হবে। সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী উচ্ছেদ করা হবে ।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

