নাসিরনগরে বেপরোয়া ইটভাটার দৌরাত্ম্য: পরিবেশ বিপর্যয়, কৃষিজমি ধ্বংস

0
151
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ইটভাটার দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছেই / ছবি - এই বাংলা

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি :


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ইটভাটার দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছেই। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মাটি কেটে ইট তৈরি, কাঠ পোড়ানো, কালো ধোঁয়া ছাড়াসহ নানা অনিয়মে পরিবেশ ও কৃষিজমি হুমকির মুখে ফেলছে ভাটাগুলো।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন—চাতলপাড়, গোয়ালনগর, কুন্ডা, নাসিরনগর, গোকর্ণ, পূর্বভাগ, বুড়িশ্বর ও হরিপুর—এ অবাধে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইটভাটা। স্থানীয় সূত্র বলছে, উপজেলায় মোট ৩০টি ইটভাটার অধিকাংশেরই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই।

সরেজমিন দেখা যায়, আবাদি জমির ওপরের ১–২ ফুট টপ সয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে নির্বিচারে। কোথাও কোথাও কোমরসমান গর্ত তৈরি করা হয়েছে। ধান রোপণ করা জমি থেকেও তুলে নেওয়া হচ্ছে মাটি, যা সহজেই ফসলকে নষ্ট করে দিচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, প্রতিদিন প্রায় ১৫০–২৫০ ট্রলি মাটি ইটভাটায় সরবরাহ করা হয়। দ্রুত মাটি তোলার জন্য কিছু এলাকায় বুলডোজারও ব্যবহার করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসাইন বলেন, “বারবার সতর্ক করার পরও তারা কথা শোনে না। মাটি কাটার পর জমির উর্বরতা ফিরে পেতে কমপক্ষে ১০–১৫ বছর লাগে।”

বুড়িশ্বর ইউনিয়নের জনবসতি, রাস্তা, স্কুলের পাশে ২টি, খুকুরিয়া ব্রিজের কাছে ১টি এবং তিতাস নদীর দুই পাশে আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেঁষে আরও ৪টি ইটভাটা চলছে বহুদিন ধরে। এদের কয়েকটির অস্থায়ী অনুমতি থাকলেও বেশিরভাগই সম্পূর্ণ অবৈধ।

ইটভাটা থেকে ইট পরিবহনে ট্রাক ব্যবহার করায় ভেঙে গেছে স্থানীয় সড়কগুলো। বৃষ্টি হলে কাদায় চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে, রোদে উড়ছে ধুলা। এসব রাস্তায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী চলাচল করে।

স্থানীয় বাসিন্দা খেলু মিয়া ও আমীর উদ্দিন বলেন, “ভাটার কালো ধোঁয়া আর ধুলাবালুতে বাড়িতে থাকা দায়। ফসল জমিতেই নষ্ট হয়। মালিকরা প্রভাবশালী—প্রতিবাদ করলে বিপদ।”

কিছু ভাটা উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগও রয়েছে।

‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা ও অনুমতিহীন ভাটা পরিচালনা করলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে আইন প্রয়োগ না হওয়ায় ইটভাটার আগ্রাসন রোধ করা যাচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন বলেন, “অবৈধ ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না। নিয়মিত অভিযান চলছে।”

পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, “দুটি ভাটাকে আগেই অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ইটভাটার এ বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে নাসিরনগরের পরিবেশ, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্য—সবই মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

এই বাংলা/এমএস
টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here