নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :
এক সময় গ্রামবাংলার যাতায়াত ও মালবাহী বাহন হিসেবে গরুর গাড়ির ছিল ব্যাপক প্রচলন। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওড়বেষ্টিত নাসিরনগর উপজেলায় এই ঐতিহ্যবাহী বাহন এখন প্রায় বিলুপ্ত। গ্রামগঞ্জের মেঠোপথে ধীর গতিতে ছুটে চলা গরুর গাড়ি আজ কেবল স্মৃতির পাতায় সীমাবদ্ধ।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
ইতিহাস বলছে, নব্যপ্রস্তর যুগ থেকেই গরুর গাড়ি ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। হরপ্পা সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনেও এক অক্ষবিশিষ্ট কাঠের চাকাওয়ালা গরুর গাড়ির অস্তিত্ব মিলেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০–১৫০০ বছর আগেও ভারতীয় উপমহাদেশে গরুর গাড়ি ছিল অন্যতম পরিবহন মাধ্যম।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, এক সময় বিয়ে-শাদী থেকে শুরু করে ধান পরিবহন—সবই হতো গরুর গাড়িতে। রাতের অন্ধকারে বা জ্যোৎস্নায় আঁকাবাঁকা পথে গাড়িয়ালের ভাওয়াইয়া গানের সুরে ফিরিয়ে আনতো বরযাত্রী ও কনেকে। সেই স্মৃতি আজ হারিয়ে গেছে দ্রুতগতির আধুনিক যানবাহনের চাপে।
নাসিরনগর উপজেলার শ্রীঘর গ্রামের বাসিন্দা তমিজ উদ্দিন বলেন, “আমার একটি গরুর গাড়ি ছিল। ধান, কুড়া, খৈলসহ বিভিন্ন মালামাল আনার কাজে ব্যবহার করতাম। কিন্তু প্রায় ৩৫ বছর হলো আর ব্যবহার করি না। আধুনিক যানবাহন আসায় এর প্রয়োজনই শেষ।”
স্থানীয়রা জানান, আগে ধান কাটার মৌসুমে সুহিলপুর এলাকা থেকে গাড়িয়ালরা গরুর গাড়ি নিয়ে নাসিরনগরে আসতেন। ধান কাটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা এলাকায় অবস্থান করতেন এবং ধান পরিবহনে গরুর গাড়ি ব্যবহার হতো ব্যাপকভাবে।
এখন বই, উপন্যাস বা পুরনো গানেই গরুর গাড়ির স্মৃতি পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞ ও সংস্কৃতিবিদদের মতে, হারিয়ে যেতে বসা এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

